বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা ইউপি নির্বাচন করছে গণতন্ত্রকে বলশালী, মুখ্য কিংবা প্রণিধানযোগ্য করার জন্য নয়, বরং একদলীয় শাসন চিরজীবি করতেই এই নির্বাচন।

বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ইউপি নির্বাচনের পরিণতি কী হতে পারে এ বিষয়ে বারবার বিএনপি নেতৃবৃন্দ আপনাদের নিকট আশংকা প্রকাশ করেছে। কয়লা ধুলেও ময়লা যায়না। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর নীতি ও আদর্শে ন্যুনতম অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্রের আচার আচরণের কোন বালাই নেই। এই ইউপি নির্বাচনের নামে ভিন্ন পন্থায় বাকশালী শাসন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করারই মহড়া মাত্র। সেই কারনেই ইউপি চেয়ারম্যান পদ তারা একচেটিয়া দখলে নেয়ার জন্যই দলীয় প্রতীকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাচ্ছে। আর সেজন্য কেড়ে নেয়া হচ্ছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র। যার উদ্দেশ্য হলো সমাজে ব্যাপক শুন্যতা সৃষ্টি করা।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, আগামী ইউপি নির্বাচনে সরকার নিজেদের প্রার্থীদেরকে জেতাতে যে ভয়ংকর সন্ত্রাসী তৎপরতা তারা চালাবে সেটিকে ঢাকা দেয়ার জন্যই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। কখনো বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে সমন জারী, মিথ্যা মামলায় চার্জশিট প্রদান এবং প্রতিদিনই মিথ্যা মামলায় বিএনপি নেতা নেত্রীদের নামে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে শাস্তির ভয় দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী মন্ত্রীদের প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আস্ফালন, আবার কখনো ডেইলী স্টার ও এর সম্পাদক মাহফুজ আনামকে নিয়ে তাদের হৈ চৈ। তাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে-ইউপি নির্বাচন নিয়ে জনগণের চোখকে ঝাপসা করা। সুতরাং সবকিছু ভোটারবিহীন সরকারেরই কারসাজি। 

রিজভী আরো বলেন,  জানুয়ারী ২০১৪ কলঙ্কিত একতরফা নির্বাচনের পর সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার ‘৭৫ এর বাকশালী শাসন ব্যবস্থাকে ভিন্ন পন্থায় পূণ:প্রতিষ্ঠা করছে। এবারে ‘৭৫ এর মতো পার্লামেন্টে রাজনৈতিক দল এবং সংবাদপত্র আইন করে নিষিদ্ধ না করলেও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যয় করে আলোচনা, সমালোচনা, বিরোধী দলের কর্মকান্ড, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ব্যক্তি মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নিষ্ঠুর নিষ্পেষনে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে পদদলিত করে নির্দয় ভোটারবিহীন স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী তাদের ইচ্ছাপূরণ করছে। দেশ শাসনে জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে অদক্ষতা, অযোগ্যতা আর অহংকারে দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত শাসিয়ে যাচ্ছে সরকার। দেশে এখন শঙ্কা ও অস্বস্তি ব্যাপকভাবে বিরাজমান। শাসকগোষ্ঠীর কথাবার্তায় উগ্রতা, অহমিকা আর দম্ভের প্রকাশই প্রতিনিয়ত শুনতে হচ্ছে দেশবাসীকে।

তিনি বলেন,  যে জাতি রক্ত দিয়ে, প্রাণ দিয়ে ভালভাসার মূল্যে যে গণতন্ত্রের বিজয় পতাকাকে উড্ডীন করেছিল তা আজ ছিন্নভিন্ন হয়ে ভূপৃষ্ঠে শায়িত। গণতন্ত্রকে তাড়িয়ে দিয়ে এই অবৈধ সরকার জনগণের রক্ত নিংড়িয়ে প্রাণ সংহার করে জবরদস্তিমূলকভাবে টিকে যাওয়ার অহমিকায় জনগণের শক্তিকে সন্দেহ ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখছে। কিন্তু ভোটারবিহীন সরকারের নিষ্ঠুর রক্তপাতে সমাজের অন্তস্রোতে যে যুগবেদনার কষ্ট ক্রিয়াশীল থাকছে তা যেকোন মূহুর্তে উদগীরিত আগ্নেয়গিরির লাভার আঘাতের ন্যায় এই দানবীয় স্বৈরশাসনকে ধ্বংস করে দিবে।

এমএইচ