“ভাষা আন্দোলনের চেতনা স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও সাম্যের চেতনা। কিন্তু স্বাধীনতার এই দির্ঘ পথ অতিক্রান্ত হলেও আমরা আজও সে লক্ষ্যে পৌছাতে পারিনি। বিজাতীয় আগ্রাসনে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি আজ অরক্ষিত” এইসব মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী সাঈদা রুম্মান।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে “মাতৃভাষার তাৎপর্য ও গুরুত্ব” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদা রুম্মান বলেন, “ভাষা আন্দোলনের চেতনা স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও সাম্যের চেতনা। কিন্তু স্বাধীনতার এই দির্ঘ পথ অতিক্রান্ত হলেও আমরা আজও সে লক্ষ্যে পৌছাতে পারিনি। বিজাতীয় আগ্রাসনে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি আজ অরক্ষিত। তাই বাংলা ভাষার মর্যাদা ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায় আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠা চালাতে হবে।”
মাতৃভাষায় কুরআনের দাওয়াত সম্প্রসারণের উপর অত্যন্ত জোর দিয়ে সাঈদা রুম্মান বলেন, “ইসলামের সুমহান আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে মাতৃভাষায় তুলে ধরতে হবে। তাহলে সহজেই তারা এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হবে।”
আলোচনা সভায় সালমা সুলতানার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী সাঈদা রুম্মান। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা শাহীনা আক্তার, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন- ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবা খাতুন শরীফা’সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান বক্তা শাহীনা আক্তার তার বক্তব্যে কুরআন হাদিসের আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “ভাষা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত। আদি পিতা হযরত আদম (আ:) কে আল্লাহ ভাষা জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক ত্যাগ ও কোরবানীর বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হলেও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে বাংলা ভাষা চালু করা এখনও সম্ভব হয়নি। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই বাংলা ভাষার মর্যাদা সম্পর্কে অনেক কথায় বলা হয়। কিন্তু ভাষার উৎকর্ষ ও বিকাশ সাধনে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। তাই বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে যথাযোগ্য মর্যাদায় সমুন্নত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠা চালাতে হবে। মহান একুশের দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাইফ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেসবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
বিশেষ অতিথি মাহবুবা খাতুন শরীফা বলেন, “৫২’র মহান শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা লাভ করেছে। তাই ভাষা শহীদদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং জাতি তাদেরকে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।”
এসময় তিনি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং শহীদদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি ভাষার এই মাসে সকলকে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুল (সা:) প্রদর্শিত সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে নিজেদের পরিচালিত করার আহবান জানান।
এছাড়াও আজ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও বিভাগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে।
হাজারীবাগ থানা: ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী হাজারীবাগ থানার উদ্যোগে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয় একটি হল রুমে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর আবু জারীফের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারী আ: রহমান ও থানা কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজ আলম। উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত নেতা আক্তারুল আলম সোহেল, এস. জামাল, মাহমুদুল হাসান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সভাপতি বক্তব্যে আবু জরীফ বলেন, “ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী জাতীয় নেতৃবৃন্দকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামানা করছি। মাতৃভাষার জন্য শহীদ হওয়ার ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ও নজিরবিহীন। যার ফলে ২১ ফেব্রুয়ারীকে জাতিসংগ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই মহান ২১ ফেব্রুয়ারী আমাদের জাতীয় জীবনের প্রেরনার উৎস হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “২১ মানে জুলুম ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। ২১ মানেই স্বাধীনভাবে কথা বলা, সকল প্রকার জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার এতটাই গণতন্ত্র প্রিয় যে, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের মত একটি জাতীয় কর্মসূচীও প্রকাশ্যে পালন করা যাচ্ছে না। অতীতের সকল স্বৈর-শাসকদের পথ ধরেই বর্তমান সরকার মানুষের কণ্ঠকে রোধ করছে।”
ভাষা আন্দোলনে অধ্যাপক গোলাম আযমের অবদান তুলে ধরে আবু জরীফ বলেন, “বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য মূলতঃ ১৯৪৮ সাল থেকেই তমুদ্দুনে মজলিসের মাধ্যেমে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। অধ্যাপক গোলাম আযম ডাকসুর নির্বাচিত জি. এস হিসেবে ১৯৪৮ সালের ২৭ নভেম্বর ছাত্র জনতার সমাবেশে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে মেমোরেন্ডাম (স্মারকলিপি) পেশ করেন।
ইতিহাস সাক্ষী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য এটাই প্রথম প্রতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক দাবি ছিল। যা পরবর্তিতে গণদাবিতে পরিণত হয়। ভাষা আন্দোলনের জন্য ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৩ বার গ্রেফতার করা হয় এবং দির্ঘদিন তিনি কারাবন্দী থাকেন। এমনকি তাঁকে চাকুরী থেকে “বরখাস্ত” করা হয়।” পরিশেষে অধ্যাপক গোলাম আযম’সহ সকল ভাষা শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
এমবি





