বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ও বাড্ডা থানার সাবেক আমীর অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ (৬১) ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ (৪ আগস্ট ২০১৫) ভোর ৫.৩০ টায় তিনি ইন্তিকাল করেন।তিনি গত ফেব্র“য়ারী মাসে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ এর ইন্তিকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আমীর রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারী নূরুল ইসলাম বুলবুল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাকে জান্নাতবাসী করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবাণীতে নেতৃবৃন্দ বলেন, তিনি মানবরচিত মতবাদের অসারতা বুঝতে পেরে আশির দশকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। জামায়াতে যোগদানের পর কর্মী, নেতা ও একজন সমাজ সেবক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ইসলামী আন্দোলন ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা পালন করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতবাসী করুন।
অপর এক শোক বার্তায় বাড্ডা থানা আমীর ও সেক্রেটারী অনূরূপভাবে শোক প্রকাশ করেছেন।
হারুন অর রশিদ ২০০২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাড্ডা থানা জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি সমাজসেবক, ব্যবসায়ী, জনদরদী, শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আল হেরা একাডেমী নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং আমৃত্যু এ স্কুলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি গুলশান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আজীবন সদস্য। তিনি তার বাড়ির পাশে বাইতুন নুর জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও মোতাওয়াল্লী। তিনি তার এলাকার জনগণের সেবামূলক কাজে তৎপর ছিলেন। জনগণের অধিকার আদায় ও জালেম সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্ছার ছিলেন তিনি।
তিনি বর্তমান জালেম সরকারের জুলুমের শিকার হয়ে বিগত ৪ বছর যাবত নিজ বাসভবনে থাকতে পারেনি। এ কঠিন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় তিনি আল্লাহর মেহমান হয়ে বিদায় নিয়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, একমাত্র ছেলে, দুই মেয়ে, নাতী-নাতনী এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাযা আজ বাদ আসর অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে বাড়ির পাশের কবরস্থানে মরহুমকে সমাহিত করা হবে।

ইআর