বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ইন্তেকালে দলের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে এক শোক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর বিশ্বনন্দিত ইসলামী চিন্তাবিদ, ভাষা আন্দোলনের নেতা, ডাকসুর সাবেক জিএস, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপকার অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুতে দেশের জনগণ ও সমগ্র মুসলিম বিশ্ব গভীরভাবে শোকাহত।

তারা বলেন, এ সরকারের 'মিথ্যা' মামলায় আটক থাকা অবস্থায় জীবনের শেষ প্রান্তে পরিবারের সান্নিধ্য থেকে ও উন্নত চিকিৎসা বঞ্চিত অবস্থায় তার এই মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গোলাম আযম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতির রূপকার হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি ১৯৪৭-১৯৪৯ সাল পর্যন্ত দুই বার ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত জিএস হিসেবে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে তার ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

তিনি ১৯৪৮ সালের ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের কাছে ঐতিহাসিক স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন। ভাষা আন্দোলনের কারণে তদানীন্তন সরকার তাকে গ্রেফতার করে।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

তিনি রাজশাহী বিভাগের জামায়াতের আমীর, সেক্রেটারী জেনারেল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

তিনি পাকিস্তান সরকার বিরোধী আন্দোলন এবং জাতীয় বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের পক্ষে প্রচারণা, আইয়ুব বিরোধী জোট, ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি (ড্যাক) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পাকিস্তানী শাসন আমলের বিরোধী দলীয় জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (পিডিএম) এর সেক্রেটারী জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অগ্রগতি সাধনে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহুবার কারাবরণ করেছেন। অন্তত ৫ বার বিভিন্ন সময়ে তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অপরাধে কারাবরণ করতে হয়েছে। বর্তমান জালেম সরকার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে কারাগারে আটক করে রাখে।

এই বৃদ্ধ বয়সে যেখানে পরিবারের সান্নিধ্যে তার জীবনের শেষ দিনগুলো কাটানোর কথা সেখানে এ জালেম সরকার তাকে শুধু পরিবারের সান্নিধ্য থেকে দূরেই সরিয়ে রাখেনি, তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছে। পরিবারের ও দলের পক্ষ থেকে বার বার জীবন সায়াহ্নে তাকে পরিবারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার ব্যবস্থার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানানো সত্বেও সরকার তা আমলে নেয়নি।

ইতিহাস একদিন এই নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা ও মানবতা বিরোধী অপকর্মের বিচার করবে। আর দেশের জনগণ তাকে যুগ, যুগ ধরে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

মহান রাব্বুল আলামীর তার জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মর্যাদা দান করুন। তার শোক সন্তপ্ত পরিবার, পরিজন, দেশী-বিদেশেী ভক্ত, অনুরক্ত ও গুণগ্রাহীগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করছি যে, আল্লাহ আমাদের এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।”

জেএ