জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটকের পর দীর্ঘসময় অস্বীকার করলেও মধ্য রাতেই তাঁকে আটক দেখানো হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় আইনশৃংখলা বাহিনীর কমান্ডিং ফ্রেমের বাইরে থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

বুধবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, অবৈধ সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে সমঝোতা-সংলাপের তাগিদ উপেক্ষা করে অধিকতর শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করতেই সারাদেশে সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিরোধী জোটের শান্তিপূর্ণ অবরোধের ৫১দিনে আইনশৃংখলা বাহিনী ৪৯ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছে। নেতাকর্মীদের বিনাওয়ারেন্টে আটক ও গুম করে রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দুই দুইবারের নির্বাচিত ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ডাকসুর বোর্ড থেকে মুছে দেয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে ছাত্রলীগ ইতিহাস বিকৃতিকারী সন্ত্রাসী সংগঠন। ফলক থেকে নাম মুছে এই হীন কাজটি ইতোপূর্বেও তারা করেছে। ফলক থেকে কারো নাম মুছলেই ইতিহাস পরিবর্তন করা যায় না। প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাধা না দেয়ায় প্রমাণ হয়েছে এসব জ্ঞানপাপীদের মদদেই শাসকগোষ্ঠী মিথ্যাচারিতার ইতিহাস বয়ান করছে।

মাওলানা খান বলেন, বিডিআর ট্রাজেডীর মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্বের উপর যে আঘাত এসেছে শাসকগোষ্ঠী এর দায় এড়াতে পারেনা। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে গণপ্রতিরক্ষার ব্যুহ রচনা করেই জাতি বিভক্তকারী, পক্ষ-বিপক্ষ আবাদী স্বাধীনতাবিরোধী কায়েমীশক্তির প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জনগণ জবাব দেবে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সাজানো মিথ্যা মামলায় শীর্ষ নেতাদের আটক করেও সরকারের শেস রক্ষা হবেনা। সরকারকে মনে রাখতে হবে আন্দোলনের নেতৃত্ব এখন মাঠের তৃণমূল নেতাদের হাতে সঞ্চারিত হয়েছে। বিরোধীজোটের শীর্ষনেতাদের গ্রেফতার করলে মাঠপর্যায়ের ঘরছাড়া, নিপীড়িত তারুণ্য নেতৃত্ব বঞ্চনার ক্রোধের গভীর থেকে যে প্রবল কর্মসূচি দিবে সেই ঝাপটায় শাসকগোষ্ঠীকে নির্মম পরিণতির শিকার হতে হবে।

সরকারের তীব্র বাঁধা, হুমকি-ধামকি, জুলুম-নির্যাতন, গণগ্রেফতার সত্ত্বেও লাগাতার অবরোধ এবং শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত হরতালের ৪র্থ দিন রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও এলাকায় জামায়াতের কর্মীরা মিছিল, পিকেটিং ও রাজপথ অবরোধ করায় ধন্যবাদ জানান মহানগরীর আমীর।

কেএইচ