বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে মুক্তির বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীদের সাংবাদিক সম্মেলনে এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সকল মামলায় জামিনে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এই মুহুর্তে কোন মামলা নেই। কারা কর্তৃপক্ষ কোনো অবস্থাতেই তাঁকে আটক রাখতে পারেন না। দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন আইন বলে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর রাজধানীর এক মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট ড. গোলাম রহমান ভূইয়া।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সংগঠনের একটি ঘরোয়া বৈঠক থেকে গ্রেফতার হন। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির করে প্রথমে ৪ দিন ও পরে আরো ২ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তিনি ৮ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হন। সরকার তাঁর জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ তাঁর জামিন বহাল রাখেন। ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি জেল থেকে বের হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে আরেকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি উচ্চ আদালত থেকে ফের জামিন লাভ করেন। সরকার পুনরায় তাঁর জামিন বাতিলের জন্য আপিল করলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সরকারের আবেদন খারিজ করে দেন। তিনি জেলখানা থেকে বের হওয়ার পূর্বে আবারো তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের কথিত অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২২ সালের ৩০ মে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। উক্ত মামলায়ও তিনি এ বছরের ৩০ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন প্রাপ্ত হন।
এবারো সরকার পক্ষ আপিল করলে চেম্বার জজ তা খারিজ করে দেন। তিনি পরপর তিনবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করে সর্বশেষ পবিত্র মাহে রমাদানে কারাগার থেকে বের হওয়ার প্রাক্কালে ১৬ এপ্রিল ২০২৩ পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্ব মুহূর্তে আবারো তাঁকে একটি মিথ্যা মামলায় যুক্ত করে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। ২৭ এপ্রিল তাঁকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত পরবর্তীতে শুনানী শেষে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তিনি বলেন, ২৯ মে তিনি উচ্চ আদালত থেকে আবারো জামিনপ্রাপ্ত হন। এর মাধ্যমে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে সকল মামলায় জামিন প্রাপ্ত হলেন। ১৩ জুন তাঁর জামিন নামা দাখিল করা হয়। ঠিক এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই। সুতরাং কারা কর্তৃপক্ষ কোনো অবস্থাতেই তাঁকে আটক রাখতে পারেন না। জামিন নামা দাখিল হওয়া মাত্র কারাকর্তৃপক্ষ তাঁকে মুক্ত করে দিবেন, এটাই স্বাভাবিক। অধিকন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত ২০২২ সালের ১৭ মে তাঁকে গ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই নির্দেশনা থাকার পর তাঁকে মুক্তি না দেয়া কিংবা গ্রেফতার বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ আদালত অবমাননার শামিল।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পারলাম ১৩ জুন ডিএমপির পল্টন মডেল থানা ২৫/৪/২০২১ তারিখের ২৮ নং মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য বিজ্ঞ আদালত বরাবর আবেদন করেছে। এই মামলাটিতে তাঁকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়নি। গ্রেফতার দেখানো হবে কি না তা ১৯ জুন শুনানী হবে মর্মে বলা হয়েছে। যেহেতু অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে এখন কোনো মামলা নেই, সেহেতু তাঁকে আটক রাখা সম্পূর্ণ বেআইনী ও উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরিপন্থী। আমরা এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশের আইন, সংবিধান ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে উচ্চ আদালতের সুষ্পষ্ট নিদের্শনা রয়েছে, আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হলে নতুন করে তাকে গ্রেফতার দেখাতে পারবে না। নতুন মামলা দায়েরও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে এখন কোনো মামলা নেই। একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা সেই শুনানী হবে ১৯ জুন। এখন কোন আইনের বলে তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে?
এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে মুক্তি দিতে কোন আইনী বাধা নেই। কারা কর্তৃপক্ষ বারবার আইন লংঘন করছে। তারা যদি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন তাহলে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)





