সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সরকারের কাছে ৭ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় জোট-বিএনএ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

মঙ্গবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে বিএনএ আয়োজিত সুষ্ঠু‍ ও অবাধ জাতীয় নির্বাচনের স্থায়ী রুপরেখা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন।

এসময় সরকারের প্রশংসা করে নাজমুল হুদা বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডকে আমি সাধুবাদ জানাই। কারণ রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ চলছে। তবে আমি মনে করি, সরকারের ভাবমূর্তি আরেও উজ্জ্বল হবে যদি তারা দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করে।

তার উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো হল:

১. ভোটার তালিকা হালনাগাদ করণ: তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করণে সরকারের কাছে ১১ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরনে। এগুলো হল: নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে সভাপতি করে তার সাথে যারা বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্নিতা করছে তাদের প্রত্যেককে সদস্য করে একটি ভোটার তালিকা হালনাগাকরণ কমিটি গঠন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে কিংবা অন্যকার নাম ভোটার হিসাবে যোগ হবে এ তথ্য নির্ণয় করাই হবে এই কমিটির একমাত্র দায়িত্ব প্রমুখ।

২. ভোটার পরিচয়পত্র: নাজমুল হুদা ভোটার পরিচয়পত্রে সরকারের কাছে ৪ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এগুলো হল: পাসপোর্ট একটি নাগরিকের পরিচয়পত্র। কাজেই অন্য দেশের নাগরিক এ ব্যবস্থায় জাল ভোট প্রয়োগ করতে পারবে না, ভোটার হওয়ার সাথে সাথেই একজন নাগরিক তার ভোটার পরিচয়পত্র হিসাবে পাসপোর্ট গ্রহণ করবে প্রমুখ।

৩. নির্বাচনি ব্যয় সংকোচন: এই প্রস্তাবনায় তিনি বলেন, নির্বাচনি স্বচ্ছাতার আরেকটি পূর্বশর্ত হচ্ছে নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ। নির্বাচনে প্রার্থীদের সংখ্যা যত বাড়বে সমর্থকদের সংখ্যাও তত বাড়বে। জনগণ যত বেশি নির্বাচনে সম্পৃক্ত হবে সন্ত্রাস, কারচুপি ও ভোট ছিনতাই তত হ্রাস পাবে।

৪. সার্বক্ষণিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ: এই বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তে ততক্ষণ পর্যন্ত আসা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যবেক্ষণ দল নির্বাচন চলাকালীন সার্বক্ষণিক নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

৫. নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন: এই ব্যবস্থায় নাজমুল হুদা বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশন কি বিধানে গ্রহণযোগ্য হবে এই বিষয়ে রাজনৈতিক মতেক্য থাকবে হবে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে।

৬. রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন: তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধানে সংশোধনী আনার প্রয়োজন রয়েছে। দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও বাস্তবমুখী ও সহজ করতে হবে।

৭. নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল: এই প্রক্রিয়ার তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালকে আইন প্রয়োগ আরও অধিক শক্তিশালী করতে হবে।’

নাজমুল হুদা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘সরকার যদি এই প্রস্তাবনাগুলো মেনে না নেয় তাহলে জনগণের চাপে ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হবে। ’

বি এন এ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্যে রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি, সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আল আজাদ প্রমুখ।

এমএ/এসএইচ