নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ছিল আছে ও থাকবে। এখানে অন্য কেউ কর্তৃত্ব দেখাতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধতা প্রমাণে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শহরের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বড় সমাবেশ করা হবে। সেখানে আমি সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দাওয়াত দিলাম। আসেন একত্রে বসি। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখি। গ্রুপিং করতে চাইলে নির্বাচনের পরে করেন। আগে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনেন। যারা আওয়ামী লীগ করে তাদের সঙ্গে আমার কোনো বিভেদ থাকবে না। কেউ কেউ বলে এ সিটির মালিক তিনি। আমি বলব, এ সিটির মালিক জনগণ।
আজ (শনিবার) বিকালে নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে কর্মী সমাবেশে শামীম ওসমানের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন, জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুতিসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান বলেন, “আগামী জুন জুলাইতে দেশে অনেক অঘটন ঘটবে। কিন্তু আশা করি কিছুই করতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি, সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীও এসব প্রতিহত করতে মাঠে থাকবেন। তিনি যদি মাঠে থাকেন তাহলে আমার সঙ্গে কোনো বিরোধ থাকবে না। কিন্তু মাঠে থাকবেন না আর আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন সেটা হবে না। অনেকে বলেন আমি ফ্যাক্টর। কিন্তু মনে রাখতে হবে জনগণ ছাড়া কেউ ফ্যাক্টর না।”
সম্প্রতি হকার ইস্যুর পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে সিটি করপোরেশনের অভিযোগ প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, “যাদের নামে অভিযোগ হয়েছে তাদের ধরা তো দূরের কথা। মাথার চুলের আগা ধরলে আগুন ধরিয়ে দিব। আমি প্রশাসনকে বলছি- ডাবল গেম করবেন না। আমার ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে।”
হকার ইস্যুর ঘটনায় অস্ত্র বের করা নিয়াজুল প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, “পত্রিকায় খবর আসে নিয়াজুল নাকি পলাতক। কিন্তু সে পলাতক না। নিয়াজুল অসুস্থ সে চিকিৎসা নিচ্ছে। যারা নিয়াজুলের উপর হামলা করেছে তাদের আগে ধরেন। নিয়াজুলকে ধরার চিন্তা কইরেন না।”
আইভীকে উদ্দেশ করে বলেন, “যদি ভুল করে থাকেন স্বীকার করেন সংশোধন হন। বিএনপির কাউন্সিলর নিয়ে ঘুরবেন, রাজাকারের ছেলের কথায় ভিন্ন পথে চলবেন সেটা কইরেন না। যারা আপনার নির্বাচনে দিনরাত পরিশ্রম করে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছে পরীক্ষিত সেসব নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যারা বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ৫০টা মামলা খেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে এখন ‘হুদামিছা’অভিযোগ করেছেন সেগুলো প্রত্যাহার করেন।”
শামীম ওসমান বলেন, “বাঘ আর বিড়ালের পার্থক্য বুঝতে হবে। বাঘের ঘরে বাঘের জন্ম হয়। বাঘের মুখের সামনে হাত নাড়বেন না। আমি শামীম ওসমান তো পরে; যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে তারাও যদি ডাক দেয় এক লাখ লোক জমায়েত কোনো ব্যাপার না। তখন কিন্তু সামলাতে পারব না।
আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্যানেলকে ওই সভায় পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। শামীম ওসমান অভিযোগ করেন, “আমাদের অনেকে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছে শুনেছি। এগুলো সব রেকর্ড হচ্ছে। যেখানে রিপোর্ট যাওয়া প্রয়োজন সেখানে যাচ্ছে। এর জের আপনাদের দিতে হবে।”
কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলি, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলসহ আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
এমবি





