বিচারপতি অভিসংশনের ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়ার ছলে এই ক্ষমতা সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগের হাতেই নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির ওপর আস্থা না রেখে বিচারপতি অভিসংশনের ক্ষমতা সংসদে নেওয়া হচ্ছে। কোন সংসদে নিচ্ছেন এ ক্ষমতা, যেখানে জনগণের প্রতিনিধিরা বসে নেই। এ ক্ষমতা আসলে চলে যাবে আওয়ামী লীগের কাছে।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, বিচারপতি অভিসংশন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।
ফখরুল বলেন, সুপ্রিমকোর্ট আমাদের আশ্রয়ের শেষ জায়গা। অথচ সেটির ক্ষমতাই এখন সংসদে নেওয়া হচ্ছে।
ফখরুল বলেন, কেউ শান্তিতে নেই। এখনো সময় আছে নির্যাতন, গুম, খুন বাদ দিয়ে, এসব গণবিরোধী নীতিমালা বাদ দিয়ে নির্বাচন দিন, যেখানে সবাই অংশ নেবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নেবেন না। হিটলার, মুসোলিনি কেউ পারেন নি। কিছুক্ষণ হয়তো এভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, বেশিক্ষণ নয়। আপনার নাম ওই সমস্ত লোকের সঙ্গে লেখা থাকবে, যারা ইতিহাসে ধিকৃত।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ও এর সভানেত্রী শেখ হাসিনা সজ্ঞানে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। আজ সরকারের সঙ্গে গৃহপালিত হিসেবে যিনি কাজ করছেন তিনিও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিলেন।
সম্প্রচার নীতিমালার প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছে দাবি করে ফখরুল বলেন, এজন্যই অনেকগুলো মিডিয়া বন্ধ করা হয়েছে, মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে রাখা হয়েছে, সাগর-রুনির হত্যার বিচার আজও হয়নি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অনুমতি ছাড়া কোনো কিছুই যেন প্রচার না করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।
ফখরুল বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়ভাবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি দৃষ্টিপাত না করে রায় দিয়েছিলেন। তা পেয়ে এই সরকার হাতে আকাশের চাঁদ পেয়ে যায়। এরপর দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ সেটিই চেয়েছিল।
দলের সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) সভাপতি খন্দকার গোলাম মোর্তজা, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা মহাসচিব লুৎফর রহমান, এনপিপি মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ।
ঢাকা, ২৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





