বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

আজ ৩ ডিসেম্বর এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “আওয়ামী মহাজোট সরকার অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে জাতির ঘাড়ে একদলীয় স্বৈরশাসন চাপিয়ে দিয়েছে। সরকার দেশ থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করছে। সরকার একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করার জন্যই দেশকে রাজনীতি শূন্য করতে চায়।

তারই অংশ হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে একে একে হত্যা করার চক্রান্ত করছে। সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের পাইকারীভাবে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে।

বর্তমান সরকার ও সংসদ কোনটাই বৈধ নয়। সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সংসদে গৃহপালিত বিরোধীদল তৈরী করেছে। কার্যত: বর্তমানে জাতীয় সংসদ বিরোধীদল শূন্য। সরকার বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে নামতে দিচ্ছে না।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার ও ৯০-র পতিত স্বৈরাচার মিলে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। গণতন্ত্রের প্রাণ কেন্দ্র জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রীতিনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী দু:শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করছিঃ-

১। ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র মুক্তি দিবস।

২। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।

৩। ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দু:স্থ ও গরীব লোকদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ।

৪। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠান।  

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষিত উপরোক্ত কর্মসূচী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য আমি সংগঠনের সকল শাখার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং দেশবাসীর সহযোগীতা কামনা করছি।”

এসএইচ