আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচারণার কাজে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক অন্যায়ভাবে হয়রানি ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের বাধার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

আজ বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, একের পর এক বাধা ও হয়রানির নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সবাইকে সমানভাবে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালানোর সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করার আহবান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বিঘ্নেপ্রচার-প্রচারণা চালাতে পারলেও বিরোধী কাউন্সিলর প্রার্থীদের পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে। মুখে বারবার সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির কথা বললেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা হুমকি-ধমকি ও বাধা দিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চাইছেন। বুধবারও পল্টন থেকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আনজুমান আরা রবের প্রচার গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পল্টন থানা পুলিশ এবং পল্টন মসজিদের কাছে তার প্রচার মাইক বন্ধ করে দেয় সরকার দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা।

গত মঙ্গলবারও আনমুন আরার রবের পক্ষে গণসংযোগরত অবস্থায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পল্টন থানা পুলিশ। সোমবার রাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলার প্রার্থী আঞ্জুমান আরা রবের পোষ্টারিং করার সময় সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা মু.আব্দুর রহমান ও ইব্রাহীম খলীলকে মুখে স্ট্যাপলার পিন মেরে ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে পুলিশকে ধরিয়ে দেয়া হয়। অন্য তিনজন রায়হান, আল আমীন, মানজিলকে মারাত্মভাবে আহত করে পল্টন থানায় সোপার্দ করে।

থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকা সত্তে¡ও পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মনজুর করে।

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দল মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীদের হুমকি-ধমকি দেয়ার পাশাপাশি তাদের পোস্টার ও ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। তাদের লিফলেট বিলিতেও বাধা দেয়া হচ্ছে।

একদিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার প্রতিশ্র“তি অন্যদিকে বিরোধী পক্ষকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার অপচেষ্ঠা নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র মহানগরবাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে।

এর আগেও, ঢাকা দক্ষিন- ১১ নম্বর ওয়ার্ড (শাহজাহানপুর) কাউন্সিলর প্রার্থী মোশাররফ হোসেন চঞ্চল, ঢাকা উত্তর-৪ নং ওয়ার্ড (কাফরুল) কাউন্সিলর প্রার্থী লস্কর মোঃ তছলিম, ২৯ নং ওয়ার্ড (মোহাম্মদপুর) কাউন্সিলর প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইকবাল, ১৩ নং ওয়ার্ড (মিরপুর পূর্ব) কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট এনায়েত হোসেনের বাড়ীতে বারবার গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিবারের সদস্যদেরকে হয়রানি করেছে। এমনকি নির্বাচন থেকে বিরত রাখার হীন উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইকবাল ও এডভোকেট এনায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সাজানো হত্যা মামলায় চার্জশিট প্রদান করেছে পুলিশ।

এছাড়া মোশাররফ হোসেন চঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারনাকালে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী শামীমা আক্তারের নির্বাচনী পরিচালক সালেহ আহমেদকে আটক করে পুলিশ।

এর আগে, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের শেরেবাংলা নগর থানার ২৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাইদুর রহমানকে কোন মামলা ছাড়াই গ্রেফতার করে পুলিশ। আটকের পর তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি উল্টো মামলায় জড়িয়ে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

২৮ তারিখের নির্বাচনে মহানগরবাসীর প্রতি সৎ, যোগ্য ও আদর্শ ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার আহবান জানিয়ে মহানগরী আমীর বলেন, প্রায় প্রতিদিনই বিরোধী পক্ষের প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে।

গ্রেফতার কিংবা হয়রানির কারনে অনেক প্রার্থী মাঠেই নামতে পারছেন না। পক্ষান্তরে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের কোন সমস্যা নেই। তাদের প্রচারণায়ও কোন অসুবিধা নেই।

নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় বিরোধী দল মনোনীত প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেয়াসহ হয়রানি না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার দাবী জানানো হলেও কোন প্রতিকার মেলেনি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের কোন অবস্থাই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।

৫ জানুয়ারি একদলীয়, প্রহসনের নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় সরকার আবারো নতুন করে নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু জনগণ তাদের এই ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না। যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।

জনসমর্থনবিহীন এ সরকারকে জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে। তিনি অবিলম্বে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে পুলিশ দিয়ে হয়রানি বন্ধ, নির্বাচনে বিরোধী দল মনোনিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার কাজে ক্ষমতাসীন লোকজনের বাধা, হুমকি-ধমকি বন্ধসহ স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সুযোগদানের জন্য জোর দাবি জানান।

এসএইচ