ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির ও ডিএনসিসি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সেলিম উদ্দিন গণসংযোগ শুরু করেছেন।তার অংশ হিসেবে শনিবার গুলশান, বানানী,আদাবর ও মোহাম্মদপুরে তিনি মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সভায় সেলিম উদ্দিন নগরবাসীর সমস্যা ও সমাধান নিয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি বলেন, ৪০০ বছরের পুরনো শহর ঢাকা অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে বাংলার সুবেদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহল থেকে বাংলার ঢাকায় স্থানান্তর করেন। ফলে ঢাকা নগরীর গোড়াপত্তন ঘটে।
পরবর্তীতে মোগল শাসনামল, ব্রিটিশ উপনিবেশ, পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানীর যুগ পার হয়ে বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পথে সময়ের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বেড়েছে শহরের পরিধি,আয়তন জনসংখ্যা ও নাগরিক সুবিধার চাহিদা। কিন্তু ক্রমবিবর্তনের চাহিদার আলোকে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেই ঢাকা মহনগর এখন অপরিকল্পিত ও জনদুর্ভোগের নগরী। সংঘাতময় জাতীয় রাজনীতির কারণেই নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সকল সময়ের চেয়ে খারাপ পর্যায়ে। বিশেষ করে ডিএনসিসির নাগরিক সুবিধার মান খুবই অপ্রতুল ও নিম্নমানের। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ডিএনসিসিতে সময়োপযোগী ও গতিশীল প্রশাসন এবং দক্ষ জনবলের বিষয়টি অনস্বীকার্য।
তিনি বলেন, ডিএনসিসির প্রধান সমস্যা হলো নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ক্রমবর্ধমানভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ত বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বেড়েছে রাজনৈতিক হানাহানি। ফলে নগরবাসী এখন রীতিমত আতঙ্কিত। সরকার ও নগর প্রশাসন নগরবাসীর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দিতে পারছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিভেদ ও নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
সেলিম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে অপরাধ ও অপরাধীদের পৃষ্টপোষকতা দেয়া বন্ধ করতে হবে। গণপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তির উর্দ্ধে উঠে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ডিএনসিসি প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া নগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ডিএনসিসিও দায়িত্ব এড়াতে পারে না।
তিনি বলেন, ডিএনসিসিতে বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতা সমস্যাগুলোর অন্যতম। মাঝারী মানের বৃষ্টিপাতেই ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকা পানির নীচে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে মিরপুর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা বিষয়টি খুবই প্রকট। নাগরিক পরিসেবার আওতায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন সেক্টর বেশ সমস্যা গ্রস্থ। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে এসব নাগরিক পরিসেবার মান ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী। বর্তমানে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানির অপ্রতুলতা এসব নাগরিক পরিসেবার নিম্নমানের সাক্ষ্য দেয়। মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও রাজউকের নকসা বহির্ভূত ইমারত নির্মাণ ও অপ্রতুল ডেনেজ ব্যবস্থাপনার কারণেই নগরীর জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অপরিকল্পিত ও নকশা বহির্ভূত ইমারত নির্মাণ বন্ধ, নগরায়ণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নগরবাসী জামায়াতের পক্ষে রায় প্রদান করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন ও নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ঢাকা মহাগনগরীর মজলিশে শুরা সদস্য ডা. শফিউর রহমান, আ জ ম কামাল উদ্দীন, মোস্তাফিজুর রহমান,জামায়াত নেতা জিয়াউল হাসান ও আব্দুল আউয়াল আজম প্রমূখ।





