এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারী কামাল হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য শাহীন আহমদ খান ও আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশে করোনাকালীন সময় হতে অদ্যবধি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শ্রমজীবী মানুষ নানাবিধ কারণে অভাব অনটনে বেশ কষ্টে আছে। দিনমজুর, শ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়িদের আয় হ্রাস পেয়েছে আবার অনেকে চাকুরী হরিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় একটি দায়িত্বশীল ও আদর্শবাদী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। তাই আমরা এসব মানুষের দুর্দশা লাঘবে সীমিত সামর্থ নিয়ে এগিয়ে এসেছি।

এসব ভাই বোনদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা, জুস মেকার, কফি মেকার, তালা মেরামতের যন্ত্রপাতি সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক উপকরণ তুলে দিয়ে আমরা তাদেরকে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস বেকারত্ব দুরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। একটি হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন দুনিয়াবাসীর প্রতি যদি আমরা রহম না করি তাহলে আল্লাহও আমাদের প্রতি রহম করবেন না। ফলে সমাজের মানুষের জন্য আমাদের এই কল্যাণকামী কর্মসুচী আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশ পরিচালনায় সরকার সার্বিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা জনগণকে সুশাসন উপহার দিতে পারেনি। ক্ষমতাসীনরা আজ জনগনের মৌলিক চাহিদাগুলো পুরণ করতে পারছেনা। ব্যবসা ও চাকুরী হারিয়ে বেকারত্বের যাঁতাকলে যুবসমাজ আজ অসহায়। ক্ষতিগ্রস্থ এসকল মানুষের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরনে সরকারের কার্যক্রম অত্যন্ত অপ্রতুল। চাল, ডাল, তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির ফলে তা এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক সেক্টর এখন ধ্বংসের মুখোমুখি। যা আমাদের এই সোনারদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে আমরা সব সময়ে সোচ্চার। আমরা এদেশকে ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করি। যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন হবে। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা থাকবে।

এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুফল হিসেবে মানুষ তাদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার সুনিশ্চিত হবে এবং মানবতার পাশে সকলে দাঁড়াবে। তিনি সকলকে সেই কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাশে থাকার উদাত্ত আহবান জানান। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)