বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলে। পরে দুপুরে এসব বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন।
বেলা ৩টার দিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, “খালেদা জিয়ার ঘাড়ে ও পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছয় থেকে সাতটি এক্স-রে করা হয়েছে। আগামীকাল আমরা সব এক্স-রে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাব। তারপর আগামীকালই আমরা রিপোর্টগুলো কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।”
“এরপর হয়তো কারা কর্তৃপক্ষ রিপোর্টগুলো মেডিকেল বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করবে। সেই অনুযায়ী হয়তো খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলবে।”
পরিচালক আরও বলেন, “খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক থাকুক, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছিলাম। আপাতদৃষ্টিতে তাঁকে দেখে মনে হলো তিনি সুস্থ আছেন। অনেক পথ তিনি বেশ ভালোভাবেই হাঁটলেন। সবার সঙ্গে কথা বললেন।”
সকালে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয় বলে জানান বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি জানান, এই বোর্ডে যাঁরা আছেন তাঁরা নিবিড়ভাবে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন।
পরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন- ড. ওয়াহিদুজ্জামান, ড. এস এম সিদ্দিকী ও মামুন রহমান। খালেদা জিয়ার চাহিদানুযায়ী তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুন রহমানকে চেকআপ করার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
ব্যক্তিগত চিকিৎসকের ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, “খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক থাকুক, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছিলাম।”
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে বিএসএমএমইউর পরিচালক বলেন, “আপাতদৃষ্টিতে তাঁকে দেখে মনে হলো তিনি সুস্থ আছেন। অনেক পথ তিনি বেশ ভালোভাবেই হাঁটলেন। সবার সঙ্গে কথা বললেন।”
এর আগে গত ১ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি চিকিৎসকদল কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বকশিবাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড’সহ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত। রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া হয়। রায়ের অনুলিপি ১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার।
রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়া সেখানেই আছেন।
খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। রায়ে তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান’সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
এমবি





