হজ ব্যবস্থাপনায় সবক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, হাজি সাহেবদের খেদমত করা ও খোঁজখবর নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, ধর্ম মন্ত্রনালয়, হজ মিশন ও সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাস পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ব্যর্থতা ও অবহেলায় হাজিগণ অবর্ননীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। বিএনপি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।।
শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিমান এবং সৌদি এয়ারলাইন্স আধা-আধি করে হজ যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত। কিন্তু সৌদি বিমান কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারলেও বাংলাদেশ বিমান এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে হাজিগণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাদের দেখভালের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত অফিসার পাঠিয়ে হাজিদের দেশে ফেরা নির্বিঘ্নে করতে এবং পদদলনে আহত হাজিদের যাবতীয় খোঁজ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে এ বছর ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি মানুষ সৌদি আরবে হজ পালনের জন্য গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১১ হাজারের মতো হাজি সাহেব দেশে ফিরেছেন। সরকারের অব্যবস্থাপনার কারনে ফিরতি পথেও তারা অবর্ননীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
রিপন অভিযোগ করেন, প্রতিটি ফ্লাইট ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিলম্ব হচ্ছে। অনেক হাজি বলেছেন, তারা ফ্লোরে থেকেছেন। বিমানের কর্মীরা তৃষ্ণা মেটাতে এক গ্লাস পানিও দেননি। হাজি সাহেবরা যখন দেশে আসেন, তখন অনেকেই তাদের কাছে দোয়া চাইতে যান। কিন্তু এবার হাজি সাহেবরা আসছেন বিক্ষুদ্ধ হয়ে। তাদের এই ক্ষোভ সরকারের জন্য কী মঙ্গলজনক হবে? তাদের ওপর অভিশাপ লাগবেনা?
সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে শাহাদতবরণকারী হাজিদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ৯ অক্টোবর শুক্রবার সারাদেশের সকল মসজিদে বিএনপির আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান আসাদুজ্জামান রিপন।
মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে রিপন বলেন, মেডিকেলের ভর্তির জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন ন্যায়সঙ্গত। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সদয় আচরন করার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান রিপন। একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন এই বয়সী ছেলেমেয়ে তাদের (আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য) পরিবারেও রয়েছে।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে ইউজিসির সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজের মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করের রিপন। তিনি বলেন, আইনি হেফাজতে থাকা অবস্থায় কারো মৃত্যু মেনে নেওয়া যায়না। এটা কারো কাম্য নয়। এসব ঘটনা বাংলাদেশের মানবাধিকারের ইনডেক্সকে আরো নিচে নিয়ে যাবে। আমরা এটা সমর্থন করিনা। এই হেফাজতে মৃত্যুর নিন্দা জানাই। এজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন (অব.) সুজা উদ্দিন, সহ তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফিজুর রহমান বাবুল ও খোরশোদ মিয়া আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ





