সম্প্রতি বগুড়ায় ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপি নেতা ড. আব্দুল মঈন খান।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ দাবি করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মঈন খান বলেন, এ ঘটনার দায় তারা এড়াতে পারেন না।

বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণ ও মা-মেয়েকে নির্যাতনের নিন্দা এবং ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

মঈন খান বলেন, যারা এখন অবৈধভাবে, জোর করে ক্ষমতায় আছেন, তারা দাবি করেন তাদের সরকার প্রধান নাকি একজন নারী, তাদের গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেত্রী নাকি একজন নারী, তাদের সেই কল্পিত সংসদের নেতা ও উপনেতাও নাকি নারী এবং তাদের সংসদের স্পিকারও নাকি নারী। যদি তাদের এই দাবি সত্য হয় এবং তাদের যদি কোন আত্মসম্মানবোধ থাকে, তাহলে বগুড়ায় যে ঘটনা ঘটেছে এর দায় নিয়ে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।

তিনি বলেন, এটা কিভাবে সম্ভব হতে পারে, একটা কিশোরীকে ধর্ষণ করার পর সেটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উল্টো তাদের ওপরই ফের নির্যাতন চালানো হয়। অতপর তাদেরকে অপহরন করে পুনরায় ঘন্টার পর ঘন্টা নির্যাতন চালানোর পর তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হলো।

মঈন খান বলেন, এটা পৃথিবীর কোন সভ্য দেশেতো নয়ই, কোন অসভ্য দেশেও ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এরকম অহরহ ঘটনা ঘটার পর এদেশের সরকার কিভাবে বলে যে, তারা দেশের উন্নয়ন করছে?

তিনি বলেন, আজ দেশের সমস্ত সমাজব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এটা কোন কাকতালীয় বিষয় নয়। আজ যে অপরাধীর কথা বলা হয়েছে, সে শুধু নারীর সম্ভ্রমহানি করেনি, সে হত্যাকাণ্ডের আসামি এবং মাদক দ্রব্য ও চোরাচালানির সাথেও সম্পৃক্ত।

মঈন খান বলেন, সরকার আজ দেশের জন্য কোন কিছু করতে পারেনি । কোন ভালো কাজ করতে পারেনি। তারা যেটা করেছে, তাহলো দেশে সকল অন্যায়, অপকর্ম, অত্যাচারের প্রসার ঘটিয়েছে এবং এদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি প্রধান বিচারপতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী দেশের প্রধান বিচারপতি বলেছেন সরকার নাকি তাকে কথা বলতে দেয়না। তিনি প্রশ্ন করেন, যদি দেশের চিফ জাস্টিস একথা বলেন। তাহলে আমরা যা গত দশ বছর থেকে বলে আসছি সেটা কি প্রমাণিত হয়নি?

মঈন খান বলেন, এভাবে একটি দেশ চলতে পারেনা। তাদের যতই ক্ষমতা থাকুক, যতই শক্তি তারা দেখাক, তাদের শক্তি হচ্ছে বন্দুকের শক্তি, তাদের শক্তি হচ্ছে অস্ত্রের, তাদের শক্তি হচ্ছে সন্ত্রাসের।

তিনি বলেন, যারাই আজ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে, যারা সরকারের সমালোচনা করছে, তাদের হুমকি ধমকি দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দিবেন অথবা তাকে গুম করবেন, জেলে নিবেন, তাকে অত্যাচার করবেন, এভাবেতো কোন দেশ চলতে পারেনা।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিবাদ শুরু করেছি। প্রয়োজনে দেশের ষোল কোটি মানুষ জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করবে, কিন্তু এদেশে কোন স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকারকে আর অন্যায় করতে দেওয়া হবেনা।

আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।