বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সরকারের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী।
দক্ষিণে আয়োজিত ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি রোববার সকাল ৯টায় ধানমন্ডি সিটি কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমান বলেন, আওয়ামী সরকার তাদের সীমাহীন দূর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের অর্থের যোগান দিতেই সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করছে।
মিছিল শেষে সমাবেশে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট আটবার বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ানো হয়। এবার আরেক দফা বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। এই দফায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবসা বাণিজ্যেও পড়বে এর বিরূপ প্রভাব। বাড়বে উৎপাদন খরচও। ফলে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢকা মহানগরী উত্তর বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।
বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১ নং গোল চত্তর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাইনিজ মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, নাসির উদ্দীন, আশরাফুল আলম, আব্দুল্লাহ মুয়াজ, জোবায়ের, আলাউদ্দীন মোল্লা, আবুল হাসান, ডা. শফিউর রহমান ও মুস্তাফিজুর রহমান এবং শিবিরের ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি আব্দুল আলীম প্রমূখ।
মাহফুজুর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের দাম আনুপাতিক হারে কমে যাওয়াই যৌক্তিক হলেও সরকার প্রতি ইউনিটের অনুকুুেল দাম বাড়িয়েছে ৩৫ পয়সা। যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য গোদের উপর বিষফোঁড়া হিসেবে দেখা দেবে। বর্তমান সরকারের আমলে ভোক্তা পর্যায়ে পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে মোট ৮বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে সেপ্টেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। মূলত ২০১০ সালের ১ মার্চে গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ানো হয় ৫ শতাংশ। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাইকারি ও গ্রাহক দুই পর্যায়েই বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে পাইকারিতে ১১ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে ৫ শতাংশ। একই বছরের ১ আগস্ট পাইকারি পর্যায়ে বাড়ানো হয় ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এছাড়া সে বছরের ১ ডিসেম্বর পাইকারিতে ১৬ দমমিক ৭৯ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। ২০১২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পাইকারি পর্যায়ে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৭ দশমিক শূণ্য ৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। এরপর ওই বছররের ১ সেপ্টেম্বর পাইকারি পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাইকারি পর্যায়ে ৬ দমমিক ৯৬ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাইকারি পর্যায়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। যা সরকারের গণবিরোধীতাই প্রমাণ করে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মহল লোকসানের অজুহাত তুলেছে। যা মোটেই বাস্তব সম্মত নয়। আসলে সরকার গণপ্রতিনিধিত্বশীল নয় বলেই তারা জনগণের কল্যাণে কোন কাজ না লুটপাটকে নির্বিঘ্ন করতেই দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। জনগণের ক্রয় ক্ষমতা না বাড়লেও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি এখন লাগামহীন। মূলত এই গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে জনদুর্ভোগ বাড়বে বৈ কমবে না। তাই তিনি এ বিষয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি/জেড





