সময় হলেই জনগণের সঙ্গে রাজপথে নামবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার সন্ধ্যায় তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি জনগণের সঙ্গেই আছি। সময় হলেই জনগণের কাতারে চলে আসবো। আর আমাদের সিনিয়র নেতারা তো সব সময়ই রাজপথেই থাকেন। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় কি করে। তবে রাজপথে না থাকার ব্যাপারে কিছু এজেন্সি আপনাদের এমন তথ্য দিয়ে তা প্রচার করতে বাধ্য করে।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ম রক্ষার নির্বাচন এ ব্যাপারে কি লিখিত কোন অঙ্গীকার হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা জাতির সামনে বলেছে, আর সেটাই তো সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজাকার বলেছেন, এ ব্যাপারে আপনি একমত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারেক সরাসরি তাঁকে (শেখ মুজিব) রাজাকার বলেনি। সে যা বলেছে তা বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতেই বলেছে।
সরকারকে আর সময় দিবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক বছর তো সময় দেওয়া হয়েছে। একটি বছর আমরা তাদের অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি। এখন তাদের অব্যাহত অত্যাচারে জনগণ আর তাদেরকে সময় দিতে চায় না।
আপনারা বলছেন বিরোধী দল দমাতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে; তাহলে কি তাদের অপকৌশলের কাছে আপনারা হেরে গেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি অপকৌশলের নয় বরং কৌশলের খেলা। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে না নিয়ে আসলে বুঝা যেত কাদের হার-জিত।
সমালোচনা আছে আপনাদের সঙ্গে জামায়াত থাকলে সরকার আলোচনায় বসবে না, সেক্ষেত্রে কি করবেন জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, জামায়াত এখন আমাদের সঙ্গে থাকায় এমন কথা হচ্ছে, কিন্তু আগে যখন তাদের সঙ্গে জামায়াত জোটবদ্ধ ছিল তখন কিছু বলেননি কেন?
সরকারকে ক্ষমতায় রেখেই কি আলোচনা ও নির্বাচন চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সরকার অবৈধ। তাদেরকে দেশি বিদেশি কেউ বৈধতা দেয়নি। নির্বাচন তাদের দিতেই হবে। দেশে কোন বৈধ সরকার না থাকায় দ্রুত একটি নির্বাচন দিতেই হবে। সেজন্য তাদের সঙ্গেই আলোচনা করতে হবে।
দেশবাসী মনে করে গত বছর জ্বালাও-পোড়াওয়ের ফলে আপনাদের আন্দোলন সফল হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন করেছি। কিন্তু সরকার জ্বালাও পোড়াও করে এবং সেসব অভিযোগে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থাকে। আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতেই সব ধরণের অস্ত্র দেখা যায়।
আপনারা রাজবন্দীদের মুক্তি দাবি করেছেন সেখানে কি যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক জামায়াতের নেতারা অন্তর্ভূক্ত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দাবি করছি। সেই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। কাউকে সাজা দিতে হলে আর্ন্তজাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার করতে হবে।
এ ছাড়া বছরের শেষ দিনটিতে হঠাৎ করে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে সারাদেশের মানুষের মধ্যে একটি কৌতূহলের জন্ম দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এমকে আনোয়ার, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, সারোয়ারী রহমান, খালেদা জিয়ার প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল প্রমুখ।
জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ডা. রিদউয়ান উল্লাহ শাহেদী, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুল মবিন, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গণি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পিপলস পার্টির (পিএল) চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দীন একরাম প্রমুখ।
এমএইচ/এমএ





