বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘তিনি বুঝতে পেরেছেন তার পাকিস্তানি বন্ধুরা তাকে ক্ষমতায় বসাতে পারবে না। তাই তিনি এখন ভারত বন্দনায় মত্ত।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের পুলিশ কনভেনশন সেন্টারে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ আয়োজিত ডেন্টাল সোসাইটি নির্বাচন-২০১৫ এর এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কিছু দিন আগে বিএনপির ভারত বিরোধীতাই ছিল মূলমন্ত্র। এ জন্য তারা ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশে এলে তার সঙ্গে খালেদা জিয়া দেখাও করেননি। বরং প্রণব মুখার্জী যে হোটেলে ছিলেন, সেই হোটেলের সামনে বোম ফাটিয়েছিল তারা। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পেরেছে, পাকিস্তানি বন্ধুরা তাদের ক্ষমতায় বসাতে পারবে না। তাই এখন ভারত বন্দনায় মত্ত আছেন খালেদা জিয়া।’

হানিফ বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় আসায় ২২টি চুক্তি হয়েছে। তা দেশের সাধারণ মানুষ জানেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির কী কথা হয়েছে, তা দেশের সাধারণ মানুষ জানে না।’ তাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদির কী কথা হয়েছে তা জনগণের মাঝে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা এখন হতাশায় ভুগছেন। তারা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করে বুঝতে পেরেছেন ২০১৯ সালের আগে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’

বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আপনারা খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে সংগঠনকে নতুন করে গুছিয়ে নেন।’

তিনি স্থল সীমান্ত চুক্তি সম্পর্কে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় আসার আগেই বোঝা গেছে তিনি তিস্তা চুক্তি করবেন না। তবে স্থল সীমান্ত যে চুক্তি হয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় সাফল্য। এ চুক্তি শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সফলতার অংশ। অথচ বিএনপি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাননি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানাতে ভুলেনি।’

এ সভায় ডা. এসএম ইকবালের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাব্লিউ, ডা. নাসিরুল ইসলাম, ডা. আজম খান, ডা. মোরশেদ মাওলা প্রমুখ।

জেআই