দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সরকারসহ সবার সহযোগিতা চাইলেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সহযোগিতা চান।

তিনি বলেন ফোনে (সালাহ উদ্দিন আহমেদ) বলেছেন, ‘আমি বেঁচে আছি, সুস্থ আছি। আমার জন্য দোয়া কর।’

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের মেঘালয়ের একটি মানসিক হাসপাতাল থেকে ফোনে তার স্ত্রীকে এসব কথা সালাহ উদ্দীন আহমেদ।

হাসিনা আহমেদ আরও বলেন, ‘হাসপাতালের এক চিকিৎসক ফোন করে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। সে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন।’

যার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি সালাহ উদ্দিন আহমেদ কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, ‘আমার স্বামীর কণ্ঠ আমি চিনব না। আমি তার সঙ্গেই কথা বলছি।’

তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘যাতে তিনি দেশে ফিরে আসতে পারেন সেজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশবাসী ঘটনার পর থেকেই আমাদের পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। আমাদের সাহস দিয়েছেন। দোয়া করেছেন। দেশবাসীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

এর আগে মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন বিএনপির নিখোঁজ যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

সাক্ষাত শেষে বেড়িয়ে এসে তিনি সালাহ উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে ফোনের কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ রাতে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উত্তরার একটি বাসা থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ দাবি করেন। বিএনপির পক্ষ থেকেও একই দাবি জানানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, “এই বিষয়ে (সালাহ উদ্দিনের সন্ধান) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি কিছু জানে না।”

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে জোট সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। তার স্ত্রী হাসিনা ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন।

এমএইচ