কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী ওয়াদা রক্ষা না করে উল্টো ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত।

শিবির সভাপতি বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার মাধ্যমে ছাত্রলীগ ছাত্র সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে প্রমাণ হয় ছাত্রলীগ কোনো ছাত্র সংগঠন নয়, এটি সরকারের ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী।  এর আগেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গভীর রাতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের বর্বর হামলার শিকার হয়েছিল। যৌক্তিক দাবীতে বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীদের উপর এমন বর্বর আচরণ ছাত্র সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

আজ (রোববার) চট্টগ্রামের এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াছিন আরাফাত এইসব কথা বলেন।

ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “গত ২৯ জুন কোটা সংস্কার নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবীতে শান্তিপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আদিত্য নন্দী, আরিফুর রহমান লিমন, মেহেদী হাসান রনি, মাসুদ রানা মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিলসহ চিহ্নিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে সবার সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের উপর হামলা করে। প্রকাশ্য তাদের উপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালায়। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী অনেকে। তাদেরকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

“আজও রাবিতে একই কায়দায় হামলা করেছে ছাত্রলীগ। অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানকে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবী মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং তা বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারির দাবী স্বাভাবিক। কিন্তু এমন একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বর্বর হামলায় ছাত্রলীগের কুৎসিত চরিত্র জাতির সামনে আবার প্রকাশ পেয়েছে। এ হামলার মাধ্যমে ছাত্রলীগ ছাত্র সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে প্রমাণ হয় ছাত্রলীগ কোনো ছাত্র সংগঠন নয়, এটি সরকারের ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী। এর আগেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গভীর রাতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের বর্বর হামলার শিকার হয়েছিল। যৌক্তিক দাবীতে বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীদের উপর এমন বর্বর আচরণ ছাত্র সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।” বলেন ইয়াছিন আরাফাত।

তিনি আরও বলেন, “লজ্জাজনক ভাবে যে কোন ন্যায্য দাবীর আন্দোলনেই সরকার তার গুন্ডা বাহীনিকে লেলিয়ে দিয়েছে, গুম নির্যাতন করেছে এবং বেআইনি শক্তি প্রয়োগ করেছে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনগণ ও ছাত্রসমাজের সাথে এমন ফ্যাসিবাদী আচরণ করে আসছে। তাদের নৈতিক মনোবল ও শক্তি না থাকায় ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে প্রশাসন এবং দলীয় ক্যাডার ব্যবহার করছে। কিন্তু এমন ফ্যাসিবাদী আচরণের পরিনাম কখনো শুভ হয়না।”

ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন না করে তালবাহানা করছেন। যা ছাত্রসমাজের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। এ হামলা পূর্ব পরিকল্পিত। প্রধানমন্ত্রী এখনো পর্যন্ত কোন কথা বলেননি। এ অবস্থায় কোটা সংস্কার নিয়ে সরকার নতুন কোন ষড়যন্ত্র করছে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”

ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “ছাত্রসমাজ তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে শামিল হয়েছে এবং এ আন্দোলনের প্রতি সকল ছাত্র সংগঠন ও দেশের আপামর জনসাধারনের অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে। দলমত নির্বিশেষ এক কাতারে থেকে ছাত্রসমাজ তাদের দাবী আদায় করবে। হামলাকারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্ত মূলক শান্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সন্ত্রাসী হামলায় আহত ছাত্রদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় সরকার যদি লাখো শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করার জন্য নতুন কোন ষড়যন্ত্র করে তাহলে যে কোন পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে।” 

সমাবেশে মহানগরী সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আ স ম রায়হানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবি। এসময় মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক খালেদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় এইসব কথা জানানো হয়।

এমবি