বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
প্রিয় কাউন্সিলর ও ডেলিগেটবৃন্দ,
২০ দলীয় জোট ও অন্যান্য দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ,
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ,
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে আমি আপনাদের সকলকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিন্দন।
নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই কাউন্সিল আয়োজন করতে এবং আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পেরে আমি প্রথমেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
স্বাধীনতার মাস মার্চে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, আমি সেই শহীদদেরকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।
বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নিকট প্রতিবেশী ভারতসহ যে সকল দেশ ও বন্ধুপ্রতিম জনগণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছিলেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ মরহুম জাতীয় নেতাদের অবদানের কথা স্মরণ করছি। তারা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিলেন।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের বীর অধিনায়ক, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের স্থপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, আমাদের পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও আদর্শের দিশারী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রামের পথে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত ও নিহত হয়েছেন, মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেছেন, সীমাহীন হয়রানির শিকার হয়েছেন,
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, নানাভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আমি তাদের প্রতিও আন্তরিক সমবেদনা ও সম্মান জ্ঞাপন করছি।
বিএনপি’র সকল স্তরের নেতা-কর্মীর প্রতি আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা দলের চেয়ারপারসন হিসেবে আবারো আমার প্রতি অকুণ্ঠ আস্থা ও সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
জাতীয় জীবনের এক চরম সংকট সন্ধিক্ষণে এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দেশে গণতন্ত্র নেই। জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ নেই। সত্যিকারের বৈধ সরকার নেই। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। সুশাসন নেই। সুবিচার ও ন্যায়বিচার নেই।
নারীর সম্ভ্রম ও মানবাধিকার আজ বিপন্ন। শিশুরা পর্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নিহত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তা নেই।
আছে শুধু স্বেচ্ছাচার, অনাচার, দুঃশাসন, দুর্নীতি আর চরম নৈরাজ্য। জাতি হিসেবে আমাদের বর্তমান আজ সংকট কবলিত, আর ভবিষ্যৎ অন্ধকার ও অনিশ্চিত।
আমাদের এই কাউন্সিল থেকে জাতীয় জীবনের সেই জমাটবাধা অন্ধকার দূর করে আলোর আভাস আনতে হবে।
জাতিকে আজ বিশৃঙ্খল, বিভক্ত, হতাশ ও দিশেহারা করে ফেলা হয়েছে। এই জাতিকে আবারো ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
সকল স্তরে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। সঞ্চারিত করতে হবে নতুন আশাবাদ। জনগণকে দিতে হবে পথের দিশা। এ কাউন্সিল থেকে আসতে হবে সেই পথ-নির্দেশনা।
বিএনপি’র পরম গৌরবের বিষয় হচ্ছে, শহীদ জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছিলেন। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন।
বাক-ব্যক্তি-সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত করেছিলেন। জনগণের মৌলিক-মানবিক অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।
বিশৃঙ্খল ও হতাশ জাতিকে মহান স্বাধীনতার মূল্যবোধে উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। কৃষি-শিল্প-বাণিজ্য এবং উৎপাদন ও উন্নয়নে গতি সঞ্চার করে দেশকে কর্মমুখর করে তুলেছিলেন।
তিনিই নারী ও যুব শক্তিসহ সক্ষম প্রতিটি নাগরিকের শ্রম ও মেধাকে জাতীয় অগ্রগতির ধারায় সম্পৃক্ত করেছিলেন।
কেবল অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে তিনি নিরলস শ্রমে জাতীয় সমস্যা মোকাবিলা করে সম্মুখপ্রসারী ইতিবাচক রাজনীতির ধারা তৈরি করেছিলেন। এটাই আমাদের পথ।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
দুনিয়া এখন বদলে গেছে। একুশ শতকে এসে জাতিসমূহের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে। ঐক্য, শৃঙ্খলা, মেধা, যোগ্যতা এবং সমন্বিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের মাধ্যমে চলমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করে যে যার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জাতি হিসেবে আমরা পিছিয়ে পড়ছি কেবল ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং সমন্বিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের অভাবে।
এ অবস্থা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। অতীতে বিএনপি ভবিষ্যতমুখী ইতিবাচক রাজনীতির ধারার নেতৃত্ব দিয়েছে। এখনও বিএনপি-ই শুধু পারে ইতিবাচক সেই সম্মুখপ্রসারী ধারাকে এগিয়ে নিতে।
এই যে ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী রাজনীতি ও পরিকল্পনার কথা আমরা বলছি, এগুলো কেবল কথার কথা নয়। আমরা যা বলি তা বুঝে শুনে বলি এবং বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করি।
আমরা কখনো দেশবাসীকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল, বিনামূল্যে সার কিংবা ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার মতো মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করি না।
বিরোধী দলে থেকেও বিএনপি দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে সৃজনশীল ও গঠনমূলক রাজনীতি করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কখনো ক্ষমতাসীনদের অনুকূল ও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমাদেরকে স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যকলাপ চালাতে দেয়া হয়নি।
হত্যা ও গুমসহ সব ধরনের জুলুম-নিপীড়ন ও হামলা-মামলায় আমাদের সকলকে অতিষ্ঠ করে রাখা হয়েছে।
এত কিছুর মধ্যে থেকেও দেশের সংকটজনক পরিস্থিতি এবং জনগণের দুর্দশা ও হতাশা আমাদেরকে ব্যথিত করেছে। আমরা চিন্তা করেছি, এমন অবস্থা চলতে পারে না। জাতিকে পেছনে ঠেলে দেয়ার নষ্ট রাজনীতির আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ আরো ঘোর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে।
তাই আমরা সংকট নিরসন করে দেশ-জাতিকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ব্যাপকভিত্তিক একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছি।
দেশের অগ্রসর চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী, পরিকল্পনাবিদ, গবেষক এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও অঙ্গনে কর্মরত শীর্ষস্থানীয় ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকেও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে।
সকলের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ দেশ এবং আলোকিত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপি ইতিমধ্যেই ‘ভিশন-২০৩০’ শিরোনামে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রণয়ন করেছে।
আমি আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে, অচিরেই এই ভিশন-২০৩০ চূড়ান্ত করা হবে।
এই কাউন্সিলে আমি ভিশন-২০৩০ থেকে এর সংক্ষিপ্ত রূপরেখা বা কিছুটা ধারণা তুলে ধরতে চাই।
প্রিয় ভাই-বোনেরা,মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সাম্য আজো বাসত্মবায়িত হয়নি।
সেই লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য বাংলাদেশের সকল ধর্ম-বিশ্বাসের মানুষ, পাহাড় ও সমতলসহ সকল অঞ্চলের মানুষ এবং প্রতিটি নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের চিনত্মা-চেতনা ও আশা-আকাঙ্খাকে ধারণ করে একটি অংশীদারিত্বমূলক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারসম্পন্ন, জনকল্যাণমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিকামী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা বিএনপি’র লক্ষ্য।
বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সকল উন্নয়নের চালিকাশক্তি। যে সব বাধা জনগণের মেধা, শ্রম, উদ্যোগ এবং উৎসাহকে দমিয়ে দেয়, সেগুলোকে দূর করে বিএনপি বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করবে।
আমরা এমন এক উদার গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে সকলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।
যারা সংখ্যায় কম, দুর্বল কিংবা পিছিয়ে আছে, তাদের মত ও বিশ্বাসকে অমর্যাদা না করার নীতিতে বিএনপি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।
আমরা সকল মত ও পথকে নিয়ে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি লালন ও পরিপুষ্ট করতে চাই, ধর্ম বর্ণ নির্বীশেষে একটি বাংলাদেশী সমাজ গড়ে উঠবে।
বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ‘রেইনবো নেশনে’ পরিণত হবে।
আমরা ‘ওয়ান ডে ডেমোক্রেসিতে’ বিশ্বাসী নই। জনগণের ক্ষমতাকে কেবল নির্বাচনের দিন বা ভোট দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়না বিএনপি।
জন-আকাঙ্খাকে মর্যাদা দিয়ে, তাদেরকে সম্পৃক্ত করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবো আমরা।
সুধীসমাজ, গণমাধ্যম, জনমত জরিপ, জনগণের দৈনন্দিন চাওয়া-পাওয়া, বিশেষজ্ঞ মতামত ও সবধরনের অভিজ্ঞানের নির্যাস গ্রহণ করে দেশ পরিচালনাই বিএনপি’র লক্ষ্য।
আমরা গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে পরস্পরের বিকল্প নয়, সম্পূরক মনে করি। গণতন্ত্র, জনগণের সম্মতি ও অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়া কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। বরং এতে লুণ্ঠন ও দুর্নীতির দ্বার অবারিত হয়। আজ বাংলাদেশে এর প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি।
বাংলাদেশের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল, সে রাষ্ট্রের মালিকানা আজ তাদের হাতে নেই। আমরা জনগণকে সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস বলে আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি। তাই তাদের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চাই।
তিনটি ‘গুড’ বা ‘সু’ অর্থাৎ থ্রি.জি-এর সমন্বয় ঘটাতে চাই আমরা। এই থ্রি.জি হলো: গুড পলিসি, গুড গভরনেন্স এবং গুড গভর্নমেন্ট। অর্থাৎ সুনীতি, সুশাসন এবং সু-সরকার।
গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাসনের জন্য নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও আধা-সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণমুক্ত করা হবে।
আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে এগুলোর দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
বিএনপি দরিদ্রবান্ধব ও সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে এবং এর সুফলের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্যের সমস্যাকে মোকাবেলা করতে চায় বিএনপি।
আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ। মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার। এরজন্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ‘ডবল ডিজিটে’ উন্নীত করার সৃজনশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভূমির দুষ্প্রাপ্যতার কথা বিবেচনায় রেখে একদিকে ভূমির অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করে শিল্প স্থাপন এবং অন্যদিকে ভূমির সীমিত ব্যবহারভিত্তিক আধুনিক সেবা খাত গড়ে তোলার উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করবে বিএনপি।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সবধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম ও বিচার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন ও পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে।
এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিশ্বাস-অবিশ্বাস কিংবা দলীয় আনুগত্যের বিষয় বিবেচনায় নেয়া হবে না।
মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, সততা ও সৃজনশীলতা হবে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনে যোগ্যতার মাপকাঠি।
আইনানুগভাবে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কর্তব্য পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দলীয় ও অবাঞ্ছিত সব হসত্মড়্গেপ বন্ধ করা হবে।
সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আটক অবস্থায় দৈহিক-মানসিক অমানবিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। আটকাবস্থায় মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার জন্য তদনেত্মর ব্যবস্থা থাকবে। সবধরণের নিষ্ঠুর আচরণ থেকে মানুষকে মুক্ত করা হবে।
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের যোগ্যতা ও পদ্ধতি সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করবে বিএনপি। নিয়োগের জন্য বাছাই বা সুপারিশকৃতদের ব্যক্তিগততথ্য ও সম্পদবিবরণী জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে।
গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের ভিত্তি ও বিন্যাস প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেশবাসী গভীরভাবে উপলব্ধি করছে যে, প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে।
এই অবস্থার অবসানকল্পে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।
রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সম্প্রদায়, প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পেশার জ্ঞানীগুণী ও মেধাবী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
আমাদের জাতীয় সংসদকে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট করার লক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। ‘রেফারেন্ডাম’ বা গণভোট হচ্ছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সম্মতি গ্রহণের পন্থা।
এটা নাগরিকদের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় প্রকাশের অধিকার। বর্তমান সরকার মুখে জনগণের কথা বললেও সংবিধান থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করে জনগণের সেই ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে।
আমরা সংবিধানে শহীদ জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত গণভোটের ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবো।
বিএনপি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী। সেই লক্ষে সকল স্তরে ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা সুচিহ্নিত করে সুশাসনের সহায়ক পরিবেশকে কাঙ্খিত মানে উন্নীত করা হবে।
স্থানয়ি পর্যায়ে সুশাসন, দক্ষ সেবা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুযোপযোগী, কার্যকর ও দক্ষ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
‘স্থানীয় নেতৃত্বেই টেকসই সমাধান সম্ভব’ এ নীতির ভিত্তিতে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ক্ষমতায়িত করা হবে। ক্ষমতা ও উন্নয়নের ভরকেন্দ্র হবে গ্রামমুখী।
স্থানীয় সরকারের অনুকূলে সরকারি বরাদ্দের অপ্রতুলতা এবং বৈষম্য নিরসনে জন্য জাতীয় বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ করা হবে।
আইন দ্বারা গঠিত একটি স্বাধীন কমিশন সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত অর্থ বন্টনের ব্যবস্থা করবে।
বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোনো আপোস করবে না। দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি আইন ও পদ্ধতিগত সংস্কার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপি দুর্নীতি করবে না- কাউকে করতেও দেবে না।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ন্যায়পাল’ বা ‘ওম্বুড্স্ম্যান’-এর পদ ও কার্যালয় সক্রিয় করা হবে।
গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য অনেক সাংবিধানিক প্রাতিষ্ঠান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
ধ্বংসপ্রায় এসব প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে সাংবিধানিক পদের নিয়োগপদ্ধতি সংস্কার করা হবে।
সততা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ করে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গণশুনানির ব্যবস্থা থাকবে।
দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা ও তদারকি নিবিড় ও শক্তিশালী করা হবে।
সংকীর্ণ দলীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে নয়, যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকসমূহ পরিচালনা বোর্ডে নিয়োগ দেয়া হবে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে।
বিচার, প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও খাবার পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতাসেবাসহ সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসমূহের সেবার মান ক্রমান্বয়ে উন্নত করা হবে।
সুষ্ঠু সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পাঁচ বছরের মধ্যে সমাধান করা হবে।
ভেজাল প্রতিরোধ, বিশেষ করে খাদ্যে ভেজাল রোধে এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনী ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
সন্ত্রাসী ও জঙ্গী তৎপরতার বিরুদ্ধে বিএনপি সব সময় সক্রিয়। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আন্তর্জাতিক অভিযানে আমরাই বাংলাদেশকে যুক্ত করি।
দেশের অভ্যনত্মরে গড়ে উঠা জঙ্গীবাদী নাশকতাকে আমরা কঠোর হাতে দমন করেছিলাম। জঙ্গী নেতাদের গ্রেফতার, বিচার ও কঠিন শাসিত্ম নিশ্চিত করে জঙ্গীবাদের সামর্থ ও কাঠামো ভেঙ্গে দেয়া সম্ভব হয়েছিল।
ভবিষ্যতে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমনে সেই কঠোরতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমরা একযোগে কাজ করে যাবো।
বিএনপি মনে করে, সন্ত্রাসবাদ সকল রাষ্ট্রের জন্যই হুমকির কারণ। এ কারণে বিএনপি বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডের মধ্যে কোনরকম সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে বরদাশ্ত করবে না।
বাংলাদেশের মাটি থেকে অপর কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাও মেনে নেবে না।
বিএনপি জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গঠন এবং জনগণের অংশগ্রহণে সন্ত্রাসবাদকে নিরুৎসাহিত ও নির্মূল করার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকৌশল হিসাবে দারিদ্র দূরীকরণ, বেকার সমস্যার সমাধান, সন্ত্রাসের রুদ্ধে ধর্মগ্রন্থসমূহের মূল্যবান বাণীর ব্যাপক প্রচার এবং আনত্মঃধর্মীয় সংলাপকে উৎসাহিত করা হবে।
বাংলাদেশের মতো একটি সীমিত সম্পদের ঘনবসতিপূর্ণ দেশে শিক্ষা, প্রযুক্তির প্রসার ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাকে কর্মমুখী ও ব্যাবহারিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে।
এজন্য সকল পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মান ও বিজ্ঞান শিক্ষায় অনগ্রসরতা দূর করার নীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি। ‘শুধু ধনীদের জন্য শিক্ষা নয়’, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
দেশের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে কাজ করতে সক্ষম বয়সের মানুষের হার বাড়ছে। বাড়তে থাকা এই অনুপাতকে আগামী কয়েক দশকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেগবান করার সুযোগ হিসাবে গ্রহন করা হবে। এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাবার পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এক দশকের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করা হবে।
উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে সমৃদ্ধ। গুরম্নত্ব দেওয়া হবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার উপর। গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়।
মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। তাদের কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয়কে অনত্মর্ভূক্ত করা হবে। এই সংস্কারের আওতায় ধর্মীয় শিড়্গার পাশাপাশি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও আইটি এবং ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মাদ্রাসা শিক্ষিতরা উৎপাদনশীল কাজ, চাকরি, অন্যান্য পেশা ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে।
আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নাগরিকদের মেধা ও শ্রম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগের জন্য বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিসহ অন্যান্য বিদেশি ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা সৃষ্টির জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ অগ্রাধিকার লাভ করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত।
বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জনের সুবিধার্থে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।
মেয়েদের জন্য স্নাতক এবং ছেলেদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে।
শিক্ষা সমপ্রসারণের জন্য জাতীয় টিভিতে পৃথক একটি চ্যানেল চালু করা হবে।
শিক্ষার সকল পর্যায়ে সুযোগের ক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বাধাসমূহ এবং ছেলে ও মেয়েদের বৈষম্য দূর করা হবে।
প্রতিবন্ধীদের উপযুক্ত শিক্ষা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি-র ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে তাল মিলিয়ে চলায় সক্ষম করার লক্ষ্যে এবং প্রযুক্তি ও কৃৎকৌশলের বিষয়ে মানব সম্পদের উৎকর্ষ সাধন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা সমপ্রসারণ করা হবে আমাদের লক্ষ্য।
সুষম ও নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথোপযুক্ত প্রণোদনার মাধ্যমে গোটা কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যস্ত ও বিকশিত করা হবে। কৃষিতে অনিরাপদ এবং ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার বন্ধ করা হবে।
প্রয়োজনে ভর্তূকি দিয়ে কৃষি উপকরণ সুলভ ও সহজলভ্য করা হবে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে।
কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। কৃষকদের জন্য শষ্যবীমা কর্মসূচি চালু করা হবে।
অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানব-সম্পদে পরিণত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও ন্যায্য মজুরী নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালু করার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
এর আওতায় সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যবীমার প্রচলন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নাগরিকের চিকিৎসার জন্য জিপি ও রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সমস্য সৃষ্টি করতে চায় না।
একইভাবে বিএনপি আশা করে যে, অন্য কোনো রাষ্ট্রও বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
বিএনপি প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে সৎপ্রতিবেশীসুলভ সোহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
জাতীয় স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আনত্মঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়াতে কানেকটিভিটি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও জোরদার করতে বলিষ্ঠ ও বাসত্মবসম্মত পদড়্গেপ নেয়া হবে।
যুব, নারী ও শিশুদের কল্যাণে শহীদ জিয়াউর রহমান পৃথক মন্ত্রণালয় স্থাপন করেছিলেন। তাদের জীবন বিকাশের চাহিদার নিরিখে যথোপযুক্ত উন্নয়ন-কৌশল গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় উন্নয়নে যুব ও নারী সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। নারী, শিশু এবং প্রবীণদের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পরিবেশ দূষণ রোধে জনসচেনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুন্দরবনসহ জাতীয় ঐতিহ্যসমূহ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে বিশ্বজনমত ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে বিএনপি সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
আন্তর্জাতিক উৎসসমূহ থেকে পানি সম্পদের ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ এবং পানি সম্পদের সংরক্ষণ ও সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
কাঙ্খিত ডবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির জন্য বিএনপি যথোপযুক্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এ লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত সকলপ্রকার জ্বালানি ও সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে রেল ও নৌপথকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হবে। সড়ক, রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে সারাদেশে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং জেলা ও উপজেলা শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মহানগরীগুলোতে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করে নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হবে।
দেশের দ্রুত বর্ধনশীল এবং নৈরাজ্যপূর্ণ নগরায়নকে সুশৃঙ্খল এবং ডবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বিত করতে একটি জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রনয়ণ করা হবে। যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আবাসন খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দেশব্যাপী সকল নাগরিকের বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে পরিকল্পিত ও সমন্বিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিক, বস্তিবাসী ও দরিদ্র গ্রামীণ জনগণের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ উৎসাহিত করা হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিএনপি’র অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
যারা উন্নত দেশগুলোতে উচ্চতর শিড়্গা ও প্রশিড়্গণ নিয়ে অধিকতর জ্ঞান, দক্ষতা, নৈপুণ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তাদেরকে ফিরে এসে দেশের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করা হবে। তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
তৈরী পোশাক শিল্প এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিটেন্স আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। এর সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
আমরা রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও সবধরণের সমর্থন দিয়ে তৈরী পোশাক শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করে আমরা প্রবাসীদের সমস্যাদি সমাধান ও কল্যাণের ব্যবস্থা করেছি।
আগামীতেও তৈরী পোশাক শিল্প ও প্রবাসীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারী খাতকে সম্পৃক্ত ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করার কৃতিত্ব বিএনপির।
বর্তমানে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ আশংকাজনকভাবে কমে গেছে। বিরাজমান বাধাগুলো দূর করে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে উৎপাদন ও সেবাখাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধির





