বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি, বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনের রোকন বা সক্রিয় কর্মীদের ময়দানে দ্বীন বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এটাই বায়াতের মূল দাবী। সাহাবায়ে কেরামগণ রাসূল সা. এর হাতে বায়াত নিয়ে ইসলামকে সব কিছুর উপরে বিজয়ী করার জন্য নিজের জীবনকে কুরবান করতে সদা প্রস্তুত ছিলেন। জামায়াতের রোকন হিসেবে আমাদের একই লক্ষ্য বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের এই ছোট্ট সবুজ ভূখন্ডে কালিমার বিজয়ী পতাকা উড্ডিন করার মাধ্যমে বায়াতের দাবী পূরণে আমরা প্রত্যয় দীপ্ত। সেই সাথে দেশ সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি বা নির্বাচনের মাধ্যমে পটুয়াখালী-বাউফল থেকে শুরু করে সমগ্র দেশে আমরা ন্যায়-ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি। মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে জীবন মানের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের সকল ন্যায্য নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুখি সমৃদ্ধ পটুয়াখালী জেলা গড়ার জন্য সকলকে মাঠে ময়দানে সক্রিয় ভাবে কাজ করে যেতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে মনে রাখতে হবে বাইয়াত হলো আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জনের লক্ষ্যে নিজের জান ও মালকে ইসলামী জীবনযাত্রার দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সত্তার নিকট আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করার ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতির নামই বায়াত। এ জন্যই রাসূলুল্লাহ সা.-এর হাতে বাইয়াত নেয়ার অর্থই হলো আল্লাহপাকের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী জেলার উদ্যোগে আয়োজিত ত্রৈমাসিক সাংগঠনিক রিপোর্ট পর্যালোচনা ও রোকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাসুদ এসব কথা বলেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও পটুয়াখালী জেলা আমীর অধ্যাপক শাহ আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রোকন সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাও আব্দুস সালাম, সাবেক নায়েবে আমীর মোঃ মোশাররফ হোসাইন, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মোঃ আলমগীর হোসাইন, অফিস সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শহিদুল ইসলাম কায়সারী, এইচ আর ডি সম্পাদক অধ্যাপক আবুল বশার সাইফুল্লাহ। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সহ পটুয়াখালী জেলার শতাধিক সম্মানিত রোকনবৃন্দ।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, একজন শপথের কর্মী রোকন বিশ্বাস করে মনের ভিতরে কোন ভয় দ্বিধা সংশয় থাকার নাম বাইয়াত নয়। বাইয়াত পূর্ণ করা অঙ্গীকারের অন্যতম অংশ। এজন্য বাইয়াত গ্রহণকারীর উচিত অঙ্গীকার পূর্ণ করার ওপর অবিচল ও সুদৃঢ় থাকা। এ ব্যাপারে আল কোরআনে আল্লাহর নির্দেশ, ‘আর তোমরা যখন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো, তোমরা দৃঢ়তার সাথে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না, আর তোমরা নিজেদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার স্থির করেছ, তোমরা যা করো তা নিশ্চয়ই আল্লাহপাক জানেন। (সূরা নাহল : আয়াত ৯১)। আমরা আমাদের প্রিয় পটুয়াখালী জেলাকে গোটা বাংলাদেশের মধ্যে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়তে চাই। এজন্য জামায়াতের রোকন হিসেবে জনগণের পাশে থেকে আমাদেরকে তাদের দুঃখ কষ্ট লাঘবে সব সময়ে কাজ করে যেতে হবে। সর্বপ্রথম এলাকার কল্যাণে সঠিক নেতৃত্ব বাছাই করে নিতে হবে।
ড. মাসুদ আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে বাইয়াতবদ্ধ জীবনকে সবকিছুর উপরে প্রধান্য দিতে হবে। আল্লাহর কাছে দেয়া অঙ্গীকার যে কেউ ভঙ্গ করলে তার ওয়াদা ভঙ্গের পরিণাম তারই ওপরই বর্তাবে। আর যে আল্লাহকে দেয়া অঙ্গীকার পূরণ করবে অতিসত্বর আল্লাহ তাকে মহা পুরস্কার প্রদান করবেন। জামায়াতের রোকন হিসেবে আমরা সে পুরস্কার পাওয়ার নিশ্চিত প্রত্যাশা করি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমআর





