গত বছর এপ্রিলে বিএনপির পক্ষ থেকে তৃণমূলসহ দলের সব স্তরের নেতৃত্ব পূণর্গঠনের কথা বলা হলেও প্রায় এক বছরেও সেই লক্ষ পূরণ হয়নি। কয়েকটি জেলা কমিটি ভেঙ্গে দেয়া, আর কয়েকটি ইউনিয়নের সম্মেলন ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার কাঙ্খিতমানে দলপূনর্গঠন না হওয়ার জন্য সরকারের বাধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে নজীরবিহীন কারচূপির অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলেও কোনো ধরনের আন্দোলনের পথে হাটেনি দলটি। তবে ৫জানুয়ারির ১০ম জাতীয় নির্বাচনের ২য় বর্ষপূর্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে বিএনপি। এরপর আর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করে রূটিন কাজ করছে ২বছর দরে সংসদের বাইরে থাকা এই দলটি।
তবে দলটির একাধিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিএনপি সহসাই রাজপথের বড় ধরণের কর্মসূচিতে যাবে না। দলটির হাইকমান্ড চাচ্ছেন খুব দ্রুত দলের পূনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে।আর এজন্য চলতি সপ্তাহেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণ করাসহ ঢাবি, জবি ও ঢাকা মহানগরের চারটি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এরপরেই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করা হবে। এসব কমিটি পূনর্গঠনের পর জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ব্যাপক রদবদল আনা হবে। এজন্য চলতি বছরের মার্চেই জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি প্রধান।
এবার জাতীয় কাউন্সিলের মধ্যে বিএনপিতে নতুন চমক থাকছে ‘এক নেতার এক পদ অনুসিৃত নীতি। দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর এ জন্য দলের গঠনতন্ত্রেও সংশোধনী আনা হচ্ছে।
এদিকে দলের একটি সূত্র জানায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনের আগেই বেগম জিয়া চান দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো গুছিয়ে ফেলতে। সূত্রমতে, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটিতে একঝাঁক নতুন মুখ আসবে। স্থায়ী কমিটিতেও আসবে পরিবর্তন। স্থায়ী কমিটির বয়োবৃদ্ধ সদস্যদের সিনিয়র উপদেষ্টা করার চিন্তাভাবনা চলছে।
দল গোছানোর বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারের বাধার মূখে বিএনপি তো অনেক দিন ধরেই স্বাভাবিক রাজনীতি করতে পারছিল না। তবে ৫ জানুয়ারি জনসভার মধ্য দিয়ে সেই সমস্যা অনেকটাই কেটে গেছে। এবার দল পূনর্গঠনসহ অন্যান্য বিষয়াবলী নিয়ে বিএনপি কাজ করবে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সামছুজ্জামান দুদু টাইমনিউজবিডিকে দলের পূণর্গঠন প্রসঙ্গে টাইমনিউজবিডিকে বলেন, বিএনপি পূণর্গঠন প্রক্রিয়া অনেকদিন ধরেই শুরু হয়েছে। তবে নানা কারণে তা সফল হয়নি। এর মধ্যে সরকারের বাধা অন্যতম। কারণ ক্ষমতাসীনরা চায় না বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হোক। এছাড়াও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনেকে জেলে ছিলেন সেটিও একটি বড় কারণ।
দুদু আরও বলেন, তবে এবার পুরোদমে সেই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হবে।বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডন সফর থেকে ফিরে এসে এমন আভাসই দিয়েছিলেন। যদিও পৌর নির্বাচনের কারণে তা আবারও কিছুটা থেমে ছিল।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিএনপির পূনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জড়িত সরাসরি দলটির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, গত বছর মে থেকে দলপূনর্গঠন শুরু হলেও সরকারের হামলা-মামলাসহ নানা কারণে শতভাগ সফল হওয়া যায়নি। এরপর ‘পৌর নির্বাচন ও ৫ জানুয়ারি দলের কর্মসূচি ছিল। এখন আমাদের মূল কাজ অবশিষ্ট জেলাগুলোর কমিটি গঠন। অনুকূল পরিবেশ পেলে দুই মাসের মধ্যেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা সম্ভব। এখন সুচারুভাবে দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
এমএইচ





