মান সম্মান নিয়ে বিদায় হতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীকে অনতিবিলম্বে একটি কেয়ারটেকার সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।
শনিবার (২২ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী চালক দলের উদ্যোগে ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে’ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অতীতের কথা স্মরণ করে এই সরকার বাতিল করে অনতিবিলম্বে দেশে আরেকটি নির্বাচন দিন। একবার যদি দেশের জনগণ রাস্তায় নেমে আসে তাহলে এই সরকার, সরকারের দল কেউ রেহাই পাবে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশে কোনও গণতন্ত্র নাই। গণতন্ত্রের কথা বললেই যেন অপরাধ হয়। গণতন্ত্রের কথা বললেই মামলা হয়। কারাগারে যেতে হয়। দেশে ভোটার অধিকার নেই। ভোটের অধিকারের কথা বললেই ১ থেকে ১০০টি মামলা হয়। বিএনপি ও বিরোধী দলের প্রায় লক্ষাধিক মামলা হয়েছে।’
দুদু বলেন, ‘একটি অদ্ভুত ব্যাপার- যে দেশে স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে। দুই লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। সেই গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা এখন নাই। এখানে একটি কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই দেশে কেয়ারটেকার সরকারের আইন সংসদে পাস করেছিলেন। তিনি একমাত্র নেত্রী যিনি মানুষের অধিকারের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আইন পাশ করেছেন। সেই নেত্রীকে একেবারে মিথ্যা মামলায় প্রায় ১৭ মাস ধরে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে। এই মানববন্ধন থেকে তাকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়া হোক।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘গত ৬ মাস আগে এই দেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতে হয়েছে। এই নির্বাচন আমেরিকা মানে নাই, ব্রিটেনের মানে নাই, জাতিসংঘ মানে নাই। এই দেশের যে পরাশক্তি দলগুলো আছে তারা মানে নাই। অথচ এই অবৈধ সরকার ২৯ তারিখের অবৈধ নির্বাচনের কথা বলে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। আমি সরকারকে বলবো অনতিবিলম্বে দেশে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়া হোক।’
এসএম/জেড





