দেশের চলমান সংকট নিরসন ও সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণামের কথা অনুধাবন করে সরকারকে দ্রুতই সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহবান জানিয়েছেন পেশাজীবীরা।
একই সঙ্গে দ্রুত নিবার্চন দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজী এ আহ্বান জানান।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড-সহিংসতা বন্ধ, চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংলাপ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংকট নিরসনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
এতে লিখিত বক্তব্যে রুহুল আমীন গাজী বলেন, ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক সংকট ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের অবরোধের আজ ৩৬ দিন অতিবাহিত হচ্ছে।
সরকার চলমান এই আন্দোলনকে বলপ্রয়োগ করে দমনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই কারণে এখন গোটা দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক সহিংস পরিস্থিতি।
একদিকে চলছে পেট্রলবোমা হামলা, অন্যদিকে ক্রসফায়ার। রাতে মহাসড়কে বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং দেশের নাগরিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পাশাপাশি বৈরি অবস্থান থেকে সরে আসতে উভয়পক্ষকে সংকট নিরসনে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এসব আহ্বান এখন পর্যন্ত কোনো কাজে আসে নি।
পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক বলেন, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আজ ১০ দিন ধরে ডিশ লাইন, ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। অফিসের প্রধান গেটের সামনে পুলিশ রেজিস্টার খাতা খুলে সেখানে যারা যায় তাদের নাম ঠিকানা লিখে রাখছে।
কোমলমতি শিশুদের স্কুল থেকে জোর করে এনে মানববন্ধনে দাঁড় করিয়ে খালেদা জিয়ার উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজদ্দিন আহমেদের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে।
এর আগে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী রিয়াজ রহমানকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করা হয় ও তার গাড়ি বোমা মেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করে নি।
পেশাজীবী পরিষদের এই নেতা বলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন আন্দোলন দমনে কঠিন ব্যবস্থা নিন, সব দায়িত্ব আমার। এর ধারাবাহিকতায় বিজিবি প্রধান সরাসরি গুলি চালানোর হুমকি দেন।
র্যাব প্রধান বলেন, সরকার গুলি চালাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অস্ত্র দিয়েছে, হাডু-ডু খেলতে নয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেছেন, একটি লাশ পড়লে দুটি লাশ ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা পুলিশের আছে।
এর ধারাবাহিকতায় ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে র্যা ব বিজিবি ও সাদা পোশাকের পুলিশের হাতে ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০১৪ সালে ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মারা গেছে ১২৮ জন এবং গুম হয়েছে ৮৮ জন।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নাগরিক সমাজ যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে স্বাগত জানিয়ে সংলাপের আহ্বান জানান সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএফইউজের মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস সক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম, ডিইএবি এর মহাসচিব প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ





