গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে আইজিপি তার চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তার এমন বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। সরকার তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আমি আশা করছি। আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ পুলিশের। পুলিশ নাগরিকদের সেবক, শাসক নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান ব্যক্তি হয়ে আজ ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিকের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে তাহলে আমরা সেটাই করব’বলে তিনি তার চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন। আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে এদেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, বিনা বিচারে মানুষদের হত্যা করা হতো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে নাগরিকদের তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুম করত। সেই একই কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি করার হুমকি ও ইঙ্গিত দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। তার এমন বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। সরকার তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আমি আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মধ্যে আইজিপির এমন বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত। তার বক্তব্য দেশে ভয়ের সংস্কৃতিতে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দেয়। রাষ্ট্রকে আবারও নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্তের নকশা। রাষ্ট্রকে সংকটে ফেলার যে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা সরকারের এবং সরকার দলীয় বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হচ্ছে। দেশে বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন করতে না পারা, চাঁদাবাজি বন্ধ ও মাদক নির্মূল করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার পরিচয়। নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

এস