রাজধানীতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপি সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারে মানুষ মারার প্রস্তুতির কথা বলেছেন। এ ধরনের বক্তব্যের পর কোনো সভ্য দেশে সংশ্লিষ্ট আইজিপি স্বপদে বহাল থাকতে পারতেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া মনোবল কাটিয়ে যখন সাধারণ পুলিশ সদস্যরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখন কতিপয় কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীকে আবারও কলঙ্কিত হতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নিলে তাঁরা ধরে নেবেন, সরকার আবারও গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথে হাঁটছে।
সমাবেশে মোংলার মিরাজের সন্ধান দাবি করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কোস্টগার্ডের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে হয়রানিমূলকভাবে আটক এক নারীর দ্রুত মুক্তিও দাবি করেন।
দ্রব্যমূল্য, গ্যাস সংকট ও বাজারে সিন্ডিকেটের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত বলেন, মুগদা এলাকার বাসিন্দারা গ্যাস সংকটে রান্না পর্যন্ত করতে পারছেন না। ১ হাজার ৮০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ মানুষকে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, সরকার ১৮ মাসে দেড় কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে—তবে তা মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে।
হাসনাত বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজির মাধ্যমে এমন কর্মসংস্থান চায়নি। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার আদায় করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এস
















