ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করবে বলে জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের কাজ।
একইসঙ্গে গণতন্ত্র শক্তিশালী করার জন্য পার্লামেন্ট, নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৮ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসন ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অনেক কিছু করেছেন। সর্বশেষ তিন মাস অবরুদ্ধ ছিলেন। এখন আমাদের করতে হবে। দেশের মানুষের মনে এই বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্বাস জাগাতে হবে যে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপি আন্দোলন করছে। তাহলেই তারা রাজপথে নামবে।’

দেশে নির্বাচন হবে এবং তা সময়ের ব্যাপার’-এই মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন সংগ্রামী রাজনীতিবিদদের অবস্থা ভালো নেই। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাত থেকে অন্যদের হাতে চলে যাচ্ছে। যাদের ত্যাগ নেই, শুধু ভোগ আর নির্বাচন নিয়ে থাকে তারা রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছে।

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, দ্রুতই অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। তখন তারেক রহমানেরও প্রত্যাবর্তণ হবে। তারেক রহমানের ফেরাও সময়ের ব্যাপার। তবে এই মুহূর্তে তার দেশে ফিরে আসার কোনো পরিবেশ নেই। সেজন্য আমরা ফিরে আসতে বলিনা।

১/১১ এর সময়ে কারাবন্দি অবস্থায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ‘অমানুষিক নির্যাতনের’ বর্ননা দেন দলটির এই জেষ্ঠ্য নেতা। তিনি বলেন, ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের উদ্দেশ্য ছিলো তাকে (তারেক রহমান) মেরে ফেলা। অথবা এমন অবস্থা করে দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবে কোনো কাজকর্ম করতে না পারে।

তিনি বলেন, ‘জনগন মনে করে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে একই কাজ করবে। তাদের মনে অনেক প্রশ্ন। সেইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আমাদের নেত্রী বলেই দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেনা। সুতরাং বিএনপি নতুন রাজনৈতিক সংষ্কৃতি গড়বে। হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরে আসবে, শক্তিশালী হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, দেশে একক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠলে অবধারিতভাবে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন করলে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আফম ইউসুফ হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন।

এমএইচ