বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ৫জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে এখন মানুষ হত্যায় মেতেছে।
মঙ্গলবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৫ জানুয়ারি দশম সংদস নির্বাচনের ২য় বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি এই জনসভার আয়োজন করে।
তিনি বলেন, এরা বিরোধী দলের কোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দেয় না। তারা বিএনপির কর্মসূচিকে ভয় পায়।আওয়ামী লীগ জুলুম নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।
বিএনপি প্রধান উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা তো এই দেশেরই সন্তান। কিন্তু কীভাবে আপনারা লোকজনকে ধরে নিয়ে অমমানবিক নির্যাতন করেন। জানি আপনারা বলবেন- আমরা সরকারের হুকুম তামিল করছি। আপনাদের কোনো দোষ নেই। প্রশাসনকে আওয়ামী লীগ দলীয় করণের মাধ্যমে ধ্বংশ করে দিয়েছে।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আজকে কথায় কথায় নতুন নতুন আইন করেন।কিন্তু এইভাবে নতুন নতুন আইন করে বিরোধী দলকে আটকানো যাবে না।
বেগম জিয়া ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সেই নির্বাচনও ছিল আঁতাতের।মঈন উদ্দীন-ফখরুদ্দীনের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। যারফলে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী করা হয়। এর ফলে তারা নিজেদের স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করে। কিন্তু আমরা্ও তো ২০০১ সালে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসি কিন্তু আমরা সংবিধান পরিবর্তন করি না।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এর সরকার অবৈধ, এই সংসদও অবৈধ’।৫ জানুয়ারি আমরা কী দেখেছিলাম? সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট অংশ নিয়েছিল। ওই জোটে আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি সব পরগাছা। এরা ছাড়া আর কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।
বিএনপি নেত্রী বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাদের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে সবগুলোতে তারা কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে। আর তাদের সহযোগিতা করছে এই অথর্ব মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন। তারা শেখ হাসিনার কাছে তাদের অসহায়ত্ব প্রমান করেছে। কিন্তু তারা পদত্যাগ করছে না কেন? এর জবাব একদিন দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের কোনো মানুষ আজ ভাল নেই। কৃষকরা আজ তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। কিন্তু কৃষি উপকরণের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাই আমি বলতে চাই- কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে।বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
বিএনপি প্রধান শিক্ষকদের দাবী মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে শিক্ষকসহ অন্যান্য ক্যাডারদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদার দাবী মেনে নিতে হবে।
তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতসহ জালানি তেলের দাম কমাতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। কিন্তু কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাটের জন্য এরা জনগণের পকেট কাটছে।
খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার শুধু জনগনের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয় নি। প্রেসক্লাবের মত পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন নিজেদের লোকদের দিয়ে দখল করিয়ে নিয়েছে। কারণ তারা জানে সেখানে ভোটের মাধ্যমে তারা জিততে পারবে না। এই আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ করার কারণে আজ শত শত সাংবাদিক বেকার হয়েছে। তারা আজ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
খালেদা জিয়া বলেন, এই আওয়ামী লীগ বর্তমানে টকশোগুলোতেও নিয়ন্ত্রণ করেছে। আগে মানুষ টকশো শুনত। সেখানে ভাল বিতর্ক হত। কিন্তু এখন কারা অতিথি হবে সরকার সেটি ঠিক করে দেয়। এমন সত্য কথা বললে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। টকশোতে কথা বলত এদের অনেকেই আজ দেশ ছেড়ে পালিযেছে।
তিনি বলেন, সারাদেশে যৌথবাহিনীর নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের মিথ্যা মামলায় আটক করা হচ্ছে। অভিযানের নামে বাসাবাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করা হচ্ছে। এসব চলতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বুঝতে হবে আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে সব সময় দেশের ক্ষতি করেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগের উচিৎ অবিলম্বে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। যেহেতু এখন আপনারা (আওয়ামী লীগ) সরকারে আছেন, নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব আপনাদেরই। কারণ এভাবে দেশ চলতে পারে না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, দেশের মানুষ চায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি। আমরাও তা-ই চাই। দেশের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে তবে তাহলে দেশে জঙ্গিবাদের উদ্ভব হবে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশে জঙ্গিবাদের উদ্ভব হয়। ৯৬ সালেও তাদের ক্ষমতায় থাকার সময় দেশে জঙ্গিবাদের সূচনা হয়েছিল। সে জন্য আসুন সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।সভা পরিচালনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামছুজ্জামান খান দুদু।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, আসম হান্নান শাহ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এমএইচ





