একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ছয় সদস্যের মধ্যে শপথ নিয়েছেন একজন।
বাকি পাঁচজনের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিচ্ছেন না বলে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে ঘোষণা আছে।
বিএনপি থেকে নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য শপথ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা শপথের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর রুমে অবস্থান করছেন। স্পিকার তার কক্ষে পৌঁছলেই তাদের শপথ পড়ানো হবে।
বিএনপি থেকে নির্বাচিত এ চারজন সংসদ সদস্য হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার ভুঁইয়া ও বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাত্তার, হারুন ও আমিনুল শপথ নেওয়ার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ সেরেছেন। সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে গতকাল রবিবার তিনজনই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
জানা গেছে, গত শনিবার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে ওই তিন এমপির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন সিনিয়র নেতারা।
তাঁদের শপথ না নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয় তখন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিলে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। তবে বহিষ্কারের হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছেন না তাঁরা।
উকিল আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘বহিষ্কার করে কী পথ আটকানো যায়?’ তিনি আরো বলেন, ‘সময় তো এখনো আছে, দেখি কী সিদ্ধান্ত নেই।’
সংসদে যোগদানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি চারবার এমপি ছিলাম। অর্থের বিনিময়ে আমাকে সংসদে নেওয়া যাবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।
তবে আমি মনে করি, সংসদে গিয়ে নেত্রীর মুক্তির পক্ষে কথা বলা গেলে সেটি মানুষের কাছে দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে যাবে।’ হারুন অবশ্য বলেন, ‘এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। দেখি কী করা যায়।’
সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সময় তো প্রায় শেষ। কালকের (সোমবার) মধ্যেই সিদ্ধান্ত সবাইকে জানাব।’
বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় জাহিদুর রহমান জাহিদের বহিষ্কারাদেশের চিঠি এরই মধ্যে তাঁর ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য এমপিরা যদি শপথ নেন তাঁদেরও ওই দিনই বহিষ্কার করা হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদে যোগ না দেওয়ার। এখন সেটি অমান্য করলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জাহিদের মতো বাকিদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস





