আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছেন, বিচারপতিদের অভিসংশনের ব্যাপারে বিএনপি চাইলে তাদের মতামত দিতে পারেন। তাদের মতামত গ্রহণ করা হলো না বর্জন করা হলো, সেটা বড় কথা নয়। তবে তাদের মতামত রেকর্ডে থাকবে। পরবর্তীতে যারা সংসদের প্রতিনিধিত্বে আসবেন। তারা তাদের মতামত সম্পর্কে জানতে পারবেন।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে “বঙ্গবন্ধু একাডেমী” আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সুরঞ্জিত বলেন, আজকে বিকাল ৩টায় সংসদ বসবে। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হবে। এখানে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার উপস্থিত থাকবেন। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে এই সংসদ কতদিন চলবে এবং কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এই সংসদে আইন পাশের বিষয়গুলো পাশ করা হবে। এবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়টি সামনে আসছে। আমরা আশা করছি এই সংসদে সরকারের পক্ষথেকে বিল আসবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদে বিচারপতিদের অভিসংশনের বিষয়টি উঠলে, আমি আইন বিচার ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে এটা আমার কাছে আসবে। তখন আমি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ডাকবো এবং তাদের মতামত চাইবো। তবে তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে না বর্জন করা হবে, সেটা বড় কথা নয়। তবে এটা রেকর্ডে থাকবে।

তিনি বলেন, এই সংশোধনটি নতুন করে আনা হচ্ছে না। এটা সামরিক আইনের মাধ্যমে পাকিস্তানি স্টাইলে জিয়াউর রহমান বাদ দিয়েছিল। সেটাকেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। সুতারং এ নিয়ে হইচই করার কিছু নেই।

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, এই আইনটি ফিরিয়ে আনলে ঢালও ভাবে সভাইকে অভিসংশন করা হবে না। যদি কোন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসাধচরণ এবং কাজ করার অপরায়গতার অভিযোগ উঠে। তাহলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এখানে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে অভিসংশন করা হবে। যে খানে স্পিকার ও রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার বিধান রয়েছে। সেখানে বিচারপতিদের অভিসংশন করা দোষের কিছু নয়। তাছাড়া এটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের আইন করতে হলে এর আগে আরেকটি আইন পাশ করতে হবে। এবং সেটা সংবিধান সংশোধনের পর করতে হবে। এই আইনের মাধ্যমে আমার ‌‌’৭২- এর সংবিধানে ফিরে যাব।

'জাতীয় পার্টি মন্ত্রী সভা থেকে পদত্যাগ করবে' দলটির চেয়ারম্যান হুসেন মোহাম্মদ এরশাদের এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, এটি করলে এরশাদ ও তার দল রক্ষা পাবে। জাতীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তারা ভূমিকা রাখতে পারবে। এবং এরাই প্রধান বিরোধী দল রুপে আর্বিভাব হবে। তখন রাস্তার বিরোধী দল (বিএনপি) হালে পানি পাবে না।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ও কৃষক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক নাজির মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, সাম্যবাদী দলের স্থায়ী কমিটিরি সদস্য হারুন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু একাডেমীর মহাসচিব হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।

ঢাকা, এমআর, ১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর