যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সাথে দিবসটির তাৎপর্য সাধরণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে এক সাপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান ও কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘২৬শে মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। জাতীয় জীবনে এদিনের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার মাধ্যমে একটি স্বাধীন সার্বভৌম শক্তিশালী আত্ম নির্ভরশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্টার লক্ষ্যেই আপামর জনসাধারণ এই দেশ স্বাধীন করেছিল।

কিন্তু ৪৭ বছর পরও স্বাধীনতার সুফল এদেশের জনগণ পায়নি। রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে জনগণ আজও বঞ্চিত।

তিনি বলেন," ইসলাম হচ্ছে এদেশের রক্ষা কবচ। কিন্তু এই জালিম সরকার সেই ইসলামী চেতনা তথা মুসলিম জাতি সত্তার বিরুদ্ধে অব্যাহত ভাবে কুঠারাঘাত করেছে। স্বাধীন দেশে মানুষের জান, মাল ও ইজ্জত-আব্রুর আজ কোন নিরাপত্তা নেই। দেশ চলছে এক জুলুমশাহীর খামখেয়ালীপনার মধ্য দিয়ে। জঙ্গিবাদ, রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাস সৃষ্টি, বিচার বহির্ভূত হত্যা-নির্যাতন-গুম, গণগ্রেফতার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে দেশকে এক অরাজক রাষ্ট্রে পরিণত করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে সরকার। তাই বর্তমান সরকারের এহেন অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী কার্যকালাপের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরো বলেন,‘স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে গিয়ে আমাদের এ প্রিয় জন্মভূমিকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের জনশক্তি ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে।

দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গঠন, ইসলামী আদর্শ এবং দেশের জনগনের মূল্য বোধ ও চেতনাকে ধারণ করে আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষার দৃঢ় শপথ নিয়ে এবারের স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।’

বুলবুল দিবসটি পালনে ২৫শে মার্চ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে মহানগরীর উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া, থানায় থানায় আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান, ব্লাড গ্রুপিং ও ব্লাড ডোনেশান, ফ্রি চিকিৎসা, দুস্থ ও ইয়াতীমদের মাঝে খাবার, বস্ত্র এবং শিক্ষাউপকরণ বিতরণ।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নগরবাসীকে সাথে নিয়ে এসকল কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।