বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নতজানু সরকার দেশের মানুষের কথা ভাবে না। তাদের ভাবনায় শুধুই ভারত। নিজেদের সুবিধা আদায় করতে না পারলেও ভারতকে অনেক কিছু দিয়েছে তারা।
বুধবার দুপুরে লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারেজের হ্যালিপ্যাড ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে শুধু লংমার্চ নয়, একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এমন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যারা নির্ভয়ে দেশের অধিকার আদায়ে কাজ করবে। এমন সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে যারা কাউকে খুশি করার জন্য তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যা দাবি করা থেকে বিরত থাকবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বর্তমান নতজানু সরকার দেশের মানুষের জন্য নয়, পার্শ্ববর্তী দেশের জন্য কাজ করছে। তাই এরা যা চায় তাই দিতে বাধ্য থাকে। কিন্তু জনগণের অধিকার আদায়ে ব্যর্থ। তাই এই গণবিরোধী সরকারকে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করতে হবে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1398247918.jpg[/img]
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা এই সরকার জনগণের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ভাবে না। তারা ভারতের কাছ থেকে একটি অধিকারও আদায় করতে পারেনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পানির ওপর নির্ভর করছে ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব। প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি দিলে তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব আরো বাড়বে।
ভারত সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষকের ১০ হাজার কিউসেক পরিমাণ পানি প্রয়োজন। কিন্তু আপনারা মাত্র ৩৪০০ কিউসেক পানি দিয়েছেন। এটি যথেষ্ট নয়। আমাদের ১০ হাজার কিউসেক পানি দেয়া এবং পরেও তা অব্যাহত থাকলে বন্ধুত্ব সুদৃঢ় হবে।”
ফখরুল বলেন, “তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার। কিন্তু ভারত আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী পাশের দেশের সঙ্গে কথা না বলে উজানে বাঁধ দিয়ে তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলো মরুভূমিতে পরিণত
করেছে।”
সমাবেশে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়ার বিকল্প নেই। তাই এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন নিশ্চিত করে আমাদের অধিকার আদায় করতে হবে। অবিলম্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমে এদের বিদায় করা হবে। সারাদেশের মতো ঢাকায়ও বড় ধরণের আন্দোলন করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুজিবুর রহমান বলেন, ভারত বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে। ফারাক্কা, টিপাইমুখসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণ করে প্রমত্তা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা কুশিয়ারা ও তিস্তা নদীকে হত্যা করেছে। ফলে কোটি কোটি মানুষ আজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। এই সরকার শুধু দিতে জানে নিতে জানে না। তাই জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের অধিকার আমরা আদায় করেই ছাড়বো।
জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপির এই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি।
জাগপা সভাপতি সফিউল আলম প্রধান বলেন, লংমার্চের কারণে নাকি ৩০০০ কিউসেক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা হিন্দুস্তানের এই ছলচাতুরিতে বিশ্বাস করি না। আমরা তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চাই। চুক্তির বাস্তবায়ন দেখতে চাই। দলিল দেখতে চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে হিন্দুস্তানের গোলামী করার জন্য নয়। বীরের বেশে মাথা উঁচু করে বিশ্বের বুকে বেঁচে থাকতে স্বাধীন হয়েছে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সিরকার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু, ড. ওছমান ফারুক, এডভোকেট আহমেদ আযম, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম প্রমুখ।
তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে মঙ্গলবার সকালে রংপুরের তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমীগের নেতৃত্বে ঢাকার উত্তরা থেকে লংমার্চের যাত্রা শুরু করে একই দিন সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলে এবং দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে পথসভা করে দলটি।
[b]ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
রাজনীতি
ভারতকে সুবিধা দিলেও নিজ দেশের সুবিধা আদায়ে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নতজানু সরকার দেশের মানুষের কথা ভাবে না। তাদের ভাবনায় শুধুই ভারত। নিজেদের সুবিধা আদায় করতে না পারলেও ভারতকে অনেক কিছু দিয়েছে তারা।





