বাংলাদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও তাদের সে অধিকার এখনো আদায় হয়নি। বর্তমান আওয়ামী বাকশালী, ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক সে অধিকারকে হরণ করেছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতায় এসে সরকার জনগণকে তাদের নূন্যতম স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া।

আজ রবিবার সকালে রাজধানীর এক মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রদান কালে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও  ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ফরিদ হুসাইন, ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম, মহানগরী শূরা সদস্য মাহাবুবুর রহমান, জামায়াত নেতা আবদুস সাত্তার, আতিকুর রহমান, আমিরুল ইসলাম ও  মাও: রেজাউল করিম প্রমুখ।

মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সে সকল রণাঙ্গণের যোদ্ধারা অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁরা তাদের ন্যায্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ একটি বিশেষ দলের অনুসারী হওযায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা সমাজে  অনেক বড় বড় পদে বহাল রয়েছেন। এটা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তামাশা ছাড়া কিছু নয়। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে এ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদ ও পূণর্বাসন করতে হবে।

তিনি  বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গোলামী থেকে মুক্তির জন্য স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। কিন্তু আজ আমাদের সীমান্তে  প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষ খুনসহ চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা  হচ্ছে। দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এদেশের তাবেদার সরকার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে খুশি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাদের সাথে নিরাপত্তা চুক্তির নামে বাংলাদেশকে আরেকটি সিকিম বানানোর পায়তারা করছে। দেশের স্বার্থে জনগণকে আবারো এই তাবেদার সরকারের হাত থেকে মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পৌঁছে দিতে হলে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সভা, সমাবেশ ও মিছিলে পুলিশি বাঁধা ও গণগ্রেফতার করে বাকশাল কায়েম করা যায় , কিন্তু স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হওয়া যায়না। বর্তমান আওয়ামী সরকার নিজেদেরকে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি বলে দাবি করে অথচ  তারা দেশে খুন, গুম ও বিরোধী শক্তিকে দমনে সীমাহীন নির্যাতন চালাচ্ছে যা স্বাধীনতার চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরকার যদি এখনো জনগণের ভাষা বুঝতে না পারে, সকল দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন না করে তাহলে জনগণ এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার চেতনায় ফুঁসে উঠবে ।

পরিশেষে বাংলাদেশ মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া স্বাধীনতার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা  এবং দেশজাতির কল্যাণ কামনা করে মুনাযাত করেন।

যাত্রাবাড়ী পশ্চিম:

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। উপস্থিত ছিলেন থানা আমীর খন্দকার আবু ফতেহ ও নায়েবে আমীর খন্দকার এমদাদুল হকসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

কামরাঙ্গীচর:

২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা  দিবস উপলক্ষে  বাংলাদেশ জামায়াতে  ইসলামী কামরাঙ্গীচর থানার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।থানা আমীর মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নুরুল আমিন, ফারুক হোসেন, ফিরোজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।

চকবাজার থানা:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  চকবাজার থানার  উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে “আলোচনা ও দোয়া”  অনুষ্ঠিত হয়। থানা সেক্রেটারি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের  মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আনিসুর  রহমান, জহির আহমদ, হুমায়ুন কবির, মোজাম্মেল হক প্রমুখ ।

কদমতলী পূর্ব থানা:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  কদমতলী পূর্ব থানার  উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা  সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন থানা আমীর মাওলানা আমিরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারী মনির হোসাইন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আতিকুর রহমান, মতিউর রহমান, ওমর ফারুক, কামাল উদ্দিন, কামাল হোসাইন, আশরাফ আলী।

এমই