বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অবৈধ সরকার স্বীকৃতি ও সহানুভুতি আদায়ের প্রত্যাশা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দূয়ারে দূয়ারে ধর্ণা দিয়ে অবশেষে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বর্তমানে নির্মম পতনের প্রহর গুণছে। এজন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত অবৈধ সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রবিবার দুপুর ২টায় গণমাধ্যমে প্রেরিত ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, স্পষ্টতই একটি তুমুল বিতর্কিত এবং ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটকে জঙ্গীবাদের সমস্যা হিসেবে চিত্রিত করার অপকৌশল আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য করাতে ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন চুড়ান্ত পর্যায়ের হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে।
তিনি বলেন, গত শুক্রবার বরিশালের আগৈলঝরা উপজেলার ছাত্রনেতা টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির হোসেনকে ঢাকা থেকে বিনা কারণে গ্রেফতার করে আগৈলঝরায় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুন করে ক্রসফায়ারের আষাঢ়ে গল্প সাজিয়েছে পেটোয়া পুলিশ বাহিনী। আমরা এজাতীয় হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বরাবরের মতো বলতে চাই, সময়ের পট পরিবর্তন হলে এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ উপযুক্ত আদালতে বিচারের আওতায় আনা হবে।
আজ আমরা ঘোষণা করছি-চলমান গণআন্দোলনে যাদের প্রাণ বিসর্জিত হচ্ছে সরকারী বাহিনীর হাতে তাদেরকে ‘জাতীয় বীর’ এর মর্যাদা প্রদান করা হবে, তাদের পরিবার ও সন্তানদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পূণর্বাসন করা হবে এবং আন্দোলনে বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হয়ে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদেরকে জাতীয় সম্মানসহ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পূণর্বাসন করা হবে। তাদের সকলকেই এ প্রজন্মের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
যারা বিভিন্নভাবে সরকারদলীয় দূর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমাবাজিসহ অন্যান্য নাশকতার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন তাদেরকেও একই মর্যাদা এবং ক্ষতিপূরণ ও পূণর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সালাহউদ্দীন আরও বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে অসংযত জিহ্বার রোগে আক্রান্ত রাজনীতির নাবালকত্ব শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত জয় সাহেবের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া প্রদান থেকে বিরত থেকে আগে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ প্রদান করছি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূলের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। দেশের জনগণ এখন সরকারী শ্বেতসন্ত্রাসের করুণ শিকারে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে সরকারী বাহিনীর জুলুম-নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অধিকাংশ তথ্যই দেশবাসী এবং আন্তর্জাতিক মহলের অজানা থেকে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত ক্রসফায়ার, গুপ্তহত্যা, গুম-অপহরণ, গণগ্রেফতার ও জুলুম নির্যাতন চালিয়ে সরকার প্রিয় মাতৃভুমিকে একটি রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত করেছে।
কিন্তু সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, গণতন্ত্র মুক্তির এই আন্দোলনে মানুষের ভোটের অধিকার, মৌলিক ও মানবাধিকার আদায়সহ জনগণের সকল ন্যায্য নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলন গণহত্যা, জুলুম-নির্যাতন ও গণগ্রেফতার করে স্তব্ধ করা যাবেনা। এদেশের ইতিহাসই সাক্ষী দেয়-রক্ষীবাহিনীর গণহত্যা বাকশালকে রক্ষা করতে পারেনি; আপনারাও পেটোয়া পুলিশ-র্যাব-বিজিবি দিয়ে গণহত্যা চালিয়ে অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র মুক্তির দাবিতে চলমান অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালনের
জন্য আমি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ সংগ্রামী দেশবাসীকে আহবান জানাচ্ছি।
এমএইচ/ইআর





