গালিগালাজ কারীদের রাজনৈতিক বেয়াদব হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে কিছু রাজনৈতিক বেয়াদবের জন্ম হয়েছে, যারা সন্মানী লোকদের সন্মান করতে জানে না। মূলত তারাই রাজনৈতিক বেয়াদব।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘বিজয় দিবস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আপনাদের (আওয়ামী লীগ নেতাদের) অনুরোধ করবো, আপনারা এসব বন্ধ করুন। আর এমন সমালোচনা করার আগে ভেবে দেখুন আপনি তার সমকক্ষ কিনা।
তিনি বলেন, আপনারা তারেক রহমানের বক্তবের জবাব না দিয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। তার কথা সঙ্গে আপনারা একমত নাও হতে পারেন। তাই বলে গালিগালাজ করবেন কেন। এটা কোন রাজনৈতিক নেতার কাজ হতে পারে না।
লড়াই কারো হুকুমের অপেক্ষা করে না জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল দলীয় প্রধানের। তার অপারগতায় দলের সিনিয়র নেতাদের। কোন মেজরের নয়। কিন্তু সেদিন জিয়া ঘোষণা না দিলে কে কখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিত। তারা এতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, সেদিন (৭১ সালে) তো আপনাদের অনেকেরই নেতা হওয়ার এবং ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু আপনারা তা গ্রহণ না করে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেদিনের দায়িত্ব পালন না করার ব্যর্থতার কথা স্বরণ না করে বরং স্বাধীনতার ঘোষণাকারী জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করছেন।
দেশ আজ কঠিন দু:সময় অতিক্রম করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৭১ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজন হত না। কিন্তু আজ আবার গণতন্ত্র হুমকির মুখে।
জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব কেড়ে নেওয়ার আগে নিজেদের নেতার (শেখ মুজিব) যোগ্যতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। আপনার (খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম) তো ‘বীর উত্তম নয়, বীর অধমও হওয়ার যোগ্যতা নেই।
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক দাবি করলেও আপনাদের কথাবার্তা আচার আচরনে বাকশালের দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।
অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য এমন মন্তব্য করে বর্তমানের প্রয়োজনে জীবনও দিয়ে দিব বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ পরাজিত হবে ভেবেই নির্বাচন দিতে চায় না। তারা এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে নির্বাচন দিতে চায় যাতে তারাই আবার ক্ষমতায় আসে। সে নির্বাচন গণতান্ত্রিক হতে পারে না।
আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বাংলাদেশ এখন সার্বভৌম নয়, সার্বভৌম শুধুমাত্র নামেই আছে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। সে সময় তারা বাইপাস হয়ে ভারত চলে গিয়েছিল। পরে এসে স্বাধীনতার দাবিদার বনে যায়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে ফ্যাসীবাদী কায়দায় জনগণের মাঝে হতাশা সৃষ্টি করছে। আপনাদের বলব, হতাশা নয়, সাহস নিয়ে এ ফ্যাসীবাদী সরকারের মোকাবেলা করতে হবে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অস্ত্রহীন এ মানুষগুলোই আন্দোলন করে আপনাদেরকে ক্ষমতা নামাবে।
ড্যাবের সহ সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ড্যাব মহাসচিব এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির সহ তথ্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব) আব্দুল লতিফ প্রমূখ।
এমএইচ





