বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও ‘সরকার ছিনিমিনি খেলছে’ বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, “দেশনেত্রীকে চিকিৎসার নামে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রহসনেরই নামান্তর। কোনও চিকিৎসাই সেখানে তাঁকে দেয়া হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কোনও পরামর্শেরও সুযোগ দেয়া হয়নি।”

আজ (শনিবার) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। 

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী বলেন,  “এ ছিনিমিনি খেলা বন্ধ না করলে কোটি কণ্ঠের হুঙ্কারে এ সরকারের গদিকে উল্টে দিতে জনগণ পিছপা হবে না।”সুচিকিৎসার অভাবে দেশনেত্রীর কোনও ক্ষতি হলে এর চরম দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। 

রিজভী বলেন,  “দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ হাসপাতালে আনার সময় সম্পূর্ণ অপ্রস্তুতভাবে তাঁকে আনা হয়েছে। কারাগারে তাঁর কক্ষের কাছে গিয়ে বারবার তাগিদ দিতে থাকে কর্মকর্তা’সহ ৭/৮ জন কারারক্ষী। একজন মুসলিম ধর্মপ্রাণ নারী হিসেবে ৩০-৩২ বছর ধরে তিনি শাড়ির উপরে চাদর অথবা ওড়না পরিধান করেন। এ সরকার এত হীন এবং কুৎসিৎ মনোবৃত্তির যে একজন বয়স্কা নারী যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাঁকে চাদর অথবা ওড়না পরিধান করার সুযোগও পর্যন্ত দেয়নি।”  

খালেদা জিয়াকে একরকম জোর করেই গাড়িতে উঠিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে দাবি করেন রিজভী।

বন্দির চিকিৎসা সংক্রান্ত আইনের প্রসঙ্গ টেনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,  “আইনেও আছে একজন বন্দি পূর্বে যেসব চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতেন কারাগারেও তাকে সেইসব চিকিৎসকদের চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। গত পরশু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে চাইলে প্রধান কারারক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অথচ এর কোনও প্রতিফলন আজকেও দেখা যায়নি। বেগম জিয়া ১৫-২০ বছর ধরে যে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের চিকিৎসা নিচ্ছেন আজ তা থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

রিজভী আরও অভিযোগ করেন,  “বেগম জিয়াকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে গেলে সেখানে পরিবারের সদস্যদের পর্যন্ত দেখা করতে দেয়া হয়নি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে এসে টানাহেঁচড়া করা হয়েছে শুধুমাত্র হেনস্থা ও হয়রানি করার জন্য। দেশনেত্রীর গাড়ি হাসপাতালে এসে পৌঁছলে তাঁকে একরকম টানাহেঁচড়া করে উপরে উঠানো হয়। গাড়ি থেকে নামার জন্য সিঁড়ি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে হাসপাতালে ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতিতে একরকম অপমানজনকভাবে তাঁকে হাসপাতালে ওঠা-নামা করানো হয়েছে।”  

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন,  “একজন মানুষ হিসেবে বেগম জিয়ার যে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সেটাকেও হরণ করতে ক্ষমতাসীন সরকারপ্রধান বিষ দাঁত লুকাতে পারছেন না। নিজেদের সাধু প্রমাণের জন্য সরকার বেগম জিয়ার চিকিৎসার নামে নাটক করছে। আওয়ামী রাজত্বের ছাইপাঁশের সঙ্গে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান, দফতর, সেবা বিভাগকে বলপূর্বক হরণের ধারায় বেঁধে ফেলা হয়েছে বলেই সরকারি হাসপাতালে বিরোধী দলের সেবা পাওয়ার আর কোনও সুযোগ নেই। সেই সুযোগও অধিকারহীনতারই শিকার হলেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি দেশনেত্রীর চিকিৎসা বিষয়ে সরকার আজ যে বায়েস্কোপ দেখালো তা নিন্দা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।”   

তিনি আরও বলেন, “অত্যাচার-নিপীড়ন-জুলুমের তীব্র কষাঘাত ও স্বামীহারা সন্তানহারা এক সর্বংসহা নারী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অটুট মনোবলে সব ধৈর্য ধারণ করেছেন দেশমাতৃকা ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকারে। বেগম জিয়ার অগ্রযাত্রাকে বলপূর্বক প্রতিহত করে কোনও লাভ হবে না। তাঁকে কোনভাবেই টলানো যাবে না। অদৃশ্য গণতেন্ত্রর পুনরুজ্জীবন করতে তিনি ধ্রুব তারার মতো স্থির অবিচল লক্ষ্যে সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা প্রমুখ।

এমবি