খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আচরণ বিধি আমলে নেয়ায় নির্বাচন কমিশনকে স্যালুট জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে 'আমরা নগরবাসী আয়োজিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, নগরবাসীর প্রত্যাশা' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে স্যালুট জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আচরণ বিধি আমলে নেওয়ায় নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে যে তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায়।

সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি আপনাদের অগ্রিম জানিয়ে রাখছি, বিএনপি যেকোন সময় নির্বাচন থেকে সরে আসার পায়তারা করছে। যেকোন সময় তারা ধ্বংসাত্বক রাজনীতি শুরু করবে।

মিডিয়ার চোখকে ফাঁকি দিয়ে কোন কিছু করা সম্ভব না উল্লেখ করে তিনি বলেন, চোরেরা মনে করে মাগুরা মার্কা, ফালু মার্কা নির্বাচন করা সম্ভব। মিরপুরের উপনির্বাচনে যা করে ছিলেন। এক জায়গায় গিয়ে ফলাফল পাল্টে দিয়েছিলেন। তা এখন আর সম্ভব না।

তিনি বলেন, ঐ অবস্থা এখন আর নাই, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, কোন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি হরতাল-অবরোধ করে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে দেশের মানুষের কাছে যে নেতিবাচক অবস্থার মধ্যে পড়েছিলো তার থেকে মুক্তির জন্য ট্রানজিট খুঁজছিলো। সিটি নির্বাচনকে তারা ট্রানজিট হিসেবে নিয়েছে। তারা নির্বাচন উপলক্ষে সুযোগ নিয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী হয়রানী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা পুরোনো এবং ভাঙ্গা ক্যাসেট বারবার বাজাচ্ছেন। অথচ নির্বাচনী প্রচারনায় কোথাও বিএনপির কোন কাউন্সিলার প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়নি। সারা বাংলাদেশে কোথাও কোনও ধ্বাংসাত্বক পরিস্থিতি নেই। কিন্তু খালেদা জিয়া ধ্বাংসাত্বক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।’

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কাওরান বাজার, বাংলামোটরে সাধারণ মানুষের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার তামাশা করছেন।তিনি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

খালেদা জিয়াকে বহুরুপি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিনি আদালতে যেতে নিরাপত্তার অভাববোধ করেন। আর এখন তিনি সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান অথচ কোনও নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন না! আল্লাহ্ এই বহুরুপী মহিলার হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন।’

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে কামরুল বলেন, ‘ধ্বাংত্বাক রাজনীতি যারা করে এবং মিথ্যাচার যারা করে তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করুন।’

জাহাঙ্গীর আলম খানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্রী সতীশ চন্দ্র রায়, সংগঠনের উপদেষ্টা কণ্ঠশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল প্রমুখ।

এমএ/এমকে