চোখের চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্য যাওয়ার দলটির শীর্ষ ৩ নেতাই এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে এমিরাটস এয়ার লাইন্সের একটি বিমানে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন বিএনপি নেত্রী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি চোখের চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লন্ডনেই আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। এরপর পহেলা অক্টোবরের দিকে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। এদিকে চিকিৎসার জন্য এই মুহূর্তে দেশের বাইরে রয়েছেন দলটির আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ৭ মার্চ  তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বর্তমানে লন্ডনের সাউথ ওয়েলিংটন হসপিটাল ও লন্ডন হসপিটালে তার চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডনের এডমন্টনে সপরিবারে বসবাস করছেন।

এদিকে দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলতি বছরের ১০ আগস্ট সোমবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে রওনা হয়ে যুক্তরাস্ট্রে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ও মেয়ে।

দলের এই নেতা টানা ৬ মাস ১০ দিন কারাবন্দি থেকে গত ১৫ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে জামিনে মুক্তি পান।
ঘাড়ের নার্ভ ব্লকে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৬ জুলাই সিঙ্গাপুর যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলের শীর্ষ তিন নেতৃত্ব দেশের বাইরে অবস্থান করায় দল পরিচালনার দায়িত্ব কে পালন করবেন এ প্রশ্ন এখন দলটির প্রায় সর্বস্তরের নেতাকর্মীর মনে। এ ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ কিছু না জানালেও সিনিয়র এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দলের দায়িত্ব পালন করবেন। জানা গেছে, ঢাকা ত্যাগের আগে বিমানবন্দরে এ সিদ্ধান্তের কথা তিনি মৌখিকভাবে কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের জানিয়ে দেন।

যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান সাংগঠনিক বিষয়ে খোঁজ খবর রাখবেন। এছাড়াও মূখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। তারা নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সহযোগিতা করবেন।

এমএইচ