ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে হলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন,সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। কিন্তু সেই অনুচ্ছেদ নিয়ে জনগণের সঙ্গে বারবার প্রহসন করা হয়েছে। গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
রাজধানীর বিজয় নগরের একটি হোটেলে সোমবার আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিলে বরেণ্য এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এসব কথা বলেন।
এ সময় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারি কারচুপি ও ভোট ডাকাতির প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরে ইংরেজি ভাষায় লেখা ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০১৫’ বইয়ের প্রকাশনা ঘোষণা করা হয়।
এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু বর্তমান সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং ২৮ এপ্রিল সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে রীতিমত নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
প্রকাশিত বই সম্পর্কে তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের দুই প্রার্থী যখন বিজয়ের কাছাকাছি, তখন পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছে ক্ষমতাসীন দল ও বিতর্কিত ইসি।
এই সরকারের অধীনে ভোট কারচুপির বিষয়ে আজ থেকে ১০-১৫ বছর পরও যদি কোনো গবেষক গবেষণা করতে চান, তাহলে কিছুটা হলেও এই বই থেকে সহায়তা পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের ঢাকা সিটি দক্ষিণের বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
আফরোজা আব্বাস বলেন, বিগত সিটি নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কারচুপি করা হবে জেনেও আমরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে তাতে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা হারিনি। জনগণ আমাদের পক্ষে থাকলেও কিভাবে সরকারদলীয় লোকদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে তা দেশবাসী ও সারা বিশ্ববাসী দেখেছে। এটাই আমাদের ওই নির্বাচনের সার্থকতা।
ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের সদস্য সচিব সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, ড. আক্তার হোসেন খান, কবি আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ।
এআর





