সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের ষড়যন্ত্রের মামলায় আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কারাবন্দী মাহমুদুর রহমানকেও গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে।

সোমবার গ্রেফতার ও রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে আবেদন জানাবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপ-কমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ। একই তথ্য জানিয়েছেন, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত বিএনপি নেতার ছেলে রিজভী আহম্মেদ সিজারের কাছ থেকে মাহমুদুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী পুত্রের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলার সঙ্গে এটিও যোগ হতে যাচ্ছে।

গত বছর সিজারকে দণ্ড দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের দেয়া রায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ক্ষতি করার লক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত তথ্য পেতে আসামি এফবিআইয়ের এক এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিলেন।

ঘুষ দিয়ে তথ্য পাওয়ার পর তা সিজার বাংলাদেশি একজন সাংবাদিককে সরবরাহ করেছিলেন এবং বিনিময়ে প্রায় তিরিশ হাজার ডলার পেয়েছিলেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

ওই রায়ের পর জয়কে অপহরণের চক্রান্তের অভিযোগ তুলে ঢাকার পল্টন থানায় পুলিশ একটি মামলা করে, যাতে সিজারের বাবা প্রবাসী বিএনপি নেতা মেহম্মদ উল্লাহ মামুনসহ দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকেও আসামি করা হয়।

শফিক রেহমানকে ওই মামলায় গ্রেফতারের কথা জানিয়ে পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালে এই সাংবাদিক বিদেশ সফরের সময় ওই ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল।

অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় শফিক রেহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, মাহমুদুর রহমান একজন মানুষের (জয়) গতিবিধি, তার কর্মক্ষেত্র, পরিবারের সদস্যরা কখন কোথায় কী করছে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য পেয়েছিলেন সিজারের বন্ধু মিল্টনের থেকে। এটি একজন মানুষকে অপহরণ করার জন্য যথেষ্ট।

২০১৩ সালের আগস্টে গ্রেফতার সিজার তার বন্ধু মিল্টন ভুঁইয়ার মাধ্যমে ওই সব তথ্য ঢাকায় মাহমুদুরকে পাঠিয়েছিলেন বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।

এই ঘটনার তদন্তে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত এবং মামলার তদারক কর্মকর্তা মাশরুকুর রহমান খালেদকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে। বিদেশে থাকা মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনকেও দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানান মনিরুল।

বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ফেয়ারফিল্ড কাউন্টিতে বসবাস করছেন।

রিমান্ডে থাকা প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে বিশেষ টিম গঠন করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল রবিবার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে মামলার তদারক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।

এমবি