জামায়াত আমীর মকবুল আহমদকে মিথ্যা ও সাঁজানো মামলায় বার বার রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিক্ষোভ মিছিল, পুলিশের লাঠিচার্জ, আটক ৫, আহত ১০

জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমদকে বার বার রিমান্ডে নেওয়ার প্রতিবাদ ও অবিলম্বে তার মুক্তি দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

আজ (সোমবার) দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ প্রচার সহকারী এম আলাউদ্দিন আরমান ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সহকারী এস এম আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত দু’টি প্রেসবার্তায় এই বিক্ষোভ মিছিলের কথা জানান হয়।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে দুপুর ১টায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের শেষে পুলিশ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের উপর অতর্কিত হামলা ও লাঠিচার্জ করে এবং ৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। এসময় ১০ জন নেতা কর্মী আহত হয়।

বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর আমির ৮০ বছরের বয়োবৃদ্ধ জননেতা মকবুল আহমদ ডায়াবেটিক, হৃদরোগ’সহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত অথচ সরকার শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামীর আমির হওয়ার কারণে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অসুস্থ মকবুল আহমদকে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বার বার রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করছে। সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবাও প্রদান করছে না।”

সরকারের এই হীন আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে জামায়াতের আমির মকবুল আহমদের মুক্তি দাবী করেন।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় জামায়াত আমিরের রিমান্ড বাতিল ও সুচিকিৎসার দাবী জানাচ্ছি অথচ সরকার কর্ণপাত করছে না। মকবুলের শারীরিক অবস্থার অবনতী হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলকে এর চরম মূল্য পরিশোধ করতে হবে।”

এদিকে জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশী হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।

তিনি বিবৃতিতে বলেন, “পুলিশ আজ বাকশালী আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তারা অন্যায় ভাবে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার সমূহকে পদদলিত করছে। সরকার দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নসাৎ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করার যে হীন ষড়যন্ত্র করছে তাতে পুলিশ সক্রিয় সহযোগিতার ভূমিকা পালন করছে।” তিনি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণের অধিকার রক্ষায় আপনারা ভূমিকা পালন করেন কোন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন আপনাদের কাজ নয়।” তিনি সরকার ও পুলিশকে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমান, কামাল হোসেন, মহানগরী শূরা সদস্য নিজামুল হক নাঈম, ফতেহ আলী, হাফিজুর রহমান, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আলী হোসেন, এমদাদ আলী, নুরুদ্দিন, সাদেক বিল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা  মহানগরী পূর্বের সভাপতি ছাত্রনেতা সোহেল রানা মিঠু, ছাত্রনেতা যোবায়ের আহমদ, আহমাদ হোসেন রাসেল, শরিয়ত উল্লাহ, নুরুজ্জামান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। 

অন্যদিকে,  একই দাবিতে আজ রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর উদ্যোগেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১নং গোলচত্তর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাইনিজ মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান বলেছেন, “সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূন্য করতেই আমিরে জামায়াত ও বয়োবৃদ্ধ জাতীয় নেতা মকবুল আহমাদকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নাজেহাল করছে। কিন্তু দেশপ্রেমী জনতা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের ওপর জুলুম-নির্যাতন কোন ভাবেই মেনে নেবে না।” 

তিনি আমীরে জামায়াতের রিমান্ড বাতিল করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, নাসির উদ্দীন, আলাউদ্দীন মোল্লা, আবুল হাসান, আশরাফুল আলম ও আব্দুস সাকী, শিবিরের ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি জোবায়ের প্রমূখ।

মাহফুজুর রহমান বলেন, “সরকার দেশকে বিরোধী দলমুক্ত ও একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করতেই ফরমায়েসী বাদী, সাজানো সাক্ষী, দলীয় প্রসিকিউশন ও কাল্পনিক অভিযোগে সাবেক আমীরে জামায়াত ও বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা এবং সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে।

সরকারের বিরাজনীতিকরণের অংশ হিসেবেই জনপ্রিয় বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নামে হাজার হাজার মিথ্যা, বানোয়াট ও যোগসাজসী মামলা দিয়ে তাদেরকে বছরের পর বছর ধরে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রিমান্ডের নামে এসব নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয়েছে লোমহর্ষক ও অবর্ণনীয় নির্যাতন। কিন্তু সরকার বিরোধী দল নির্মূলের জন্য যতই জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, জনতার প্রতিরোধও ততই শানিত হচ্ছে। তাই জামায়াতের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র সফল হবে না বরং তা সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে-ইনশা আল্লাহ।”

তিনি বলেন, “সরকার দেশ পরিচালনায় সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। সরকারের জুলম-নির্যাতন, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম, অপহরণ ও গুপ্তহত্যায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অবৈধ সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষমতা হারানোর প্রহর গুণছে। তারা জনগণের শক্তির ওপর আস্থা হারিয়ে দেশকে পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে নিজেরাই জননিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

তারা রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতেই রাষ্ট্রের সকল অঙ্গকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। ধবংস করা হয়েছে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। দেশের বিচারবিভাগকে সরকারের আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সাথে সরকারের ঘৃণ্য আচরণ সে কথায় স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু এসব করে জুলুমবাজ ও স্বৈরাচারী সরকারের শেষ রক্ষা হবে না বরং ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সরকারকে লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।”

এমবি