বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য একমাসেরও বেশি সময় লন্ডনে অবস্থান করছেন। বেশ কয়েকবার দেশে ফেরার সময়সূচি নির্ধারণ করা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে তা বাতিল করা হয়েছে।
লন্ডন বিএনপির এক নেতা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের বাম চোখের ছানি অপারেশন করা হয়েছে। এখন আর দ্বিতীয় চোখের অপারেশন করাবেন না তিনি। স্থানীয় একটি হাসপাতালে তার পায়ের চিকিৎসা চলছে। এটা শেষ হতে এ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তবে লন্ডন বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার চিকিৎসা কার্যক্রমও শেষের পথে। তাই দল ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সফরের সময় আর বাড়াতে চান না তিনি। এজন্য সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে ফিরবেন।
ওই সূত্রটির আরও দাবী, দলের পক্ষ থেকে চিকিৎসার কথা বলা হলেও দল পূনর্গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেই তার সফরসূচি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কেননা বেগম জিয়ার সফরের শুরু থেকেই এই সফরকে যতটা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করা হয়েছে, তার চেয়ে বরং রাজনৈতিকভাবে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
লন্ডনে তারেক রহমানের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমান। তাদের মা-ছেলের এই বিশ্লেষণে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে দলের বর্তমান অবস্থা, স্বার্থকতা ও ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।
বিগত দিনে যারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দলের দুঃসময়ে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে আত্মগোপনে ছিলেন এবার তাদের বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নিবেন দলের এই দুই নীতিনির্ধারক। এছাড়াও দলের আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে না থেকে যারা দূরে বসে নিজেদের জানান দিয়েছে তারাও ছাড় পাবেন না।
এছাড়াও খালেদা জিয়া পারিবারিক আবহে সময় কাটালেও ফাঁকে ফাঁকে বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণকরেছেন। আগামী দিনের আন্দোলন, বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনসহ দলের সব পর্যায়ের নেতৃত্ব পূনর্গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করে ফেলেছেন।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এসব আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে খবুই গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে। এমনকি লন্ডনে অবস্থানরত কোনো নেতাকর্মী দূরে থাক, পরিবারের অন্য সদস্যদেরকেও এসব আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করেই বিএনপির দুই শীর্ষ নেতৃত্ব এসব বিষয় নিয়ে কারও সঙ্গে শেযার করেন নি।
তবে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল পুনর্গঠন কার্যক্রম থেকে শুরু করে বিএনপির যাবতীয় দলীয় কর্মকাণ্ড থমকে আছে। দলটির তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত সবাই তাকিয়ে আছেন তার দেশে ফেরার দিকে। দলের সব পর্যয়ের নেতারা প্রত্যাশা করছেন লন্ডনে বসে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বিএনপিকে শক্তিশালী করার প্রযোজনীয় হোমওয়ার্ক শেষ করছেন।
এখন খালেদা জিয়া দেশে ফিরে দলকে আন্দোলন উপযোগী করার জন্য কর্মকৌশল বাস্তবায়ন করবেন।
তবে নেতারা মনে করছেন, দল পূনর্গঠনের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া দেশে ফিরে এসেই প্রথমেই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃত্ব পূনর্গঠন শুরু করবেন।
এছাড়াও দেশের গণতন্ত্র পুনোরুদ্ধারের জন্য আবারো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিবেন। ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে ২০ দলীয় জোটে যোগ দিতে অথবা জোটের বাইরে থেকে একই প্লাটফর্মে এস গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে শরীক হওয়ার আহ্বান জানাবেন।
অন্যদিকে লন্ডন সফরের বিষয়বস্তু নিয়ে জোট ও দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ নিবেন।এরপরই পরবর্তী কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবে বিএনপি।
দলের জন্য বিএনপি প্রধান কি বার্তা নিয়ে ফিরছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু টাইমনিউজবিডিকে বলেন, চেয়ারপারসন লন্ডন গিয়েছেন মূলত চোখের চিকিৎসা করাতে। পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে। তিনি (ম্যাডাম) সুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরে আসাটাই দলের নেতাকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর।
এছাড়া্ও সেখানে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে দলীয় কিছু বিষয় আলাপ আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।যা চলমান দল পূনর্গঠনের সময় কাজে লাগবে।
তবে বেগম জিয়া দেশে আসলে বিএনপির দল পূনর্গঠন প্রক্রিয়া গতি আসবে বলেও মনে করেন শামসুজ্জামান দুদু।
দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এটিই আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।
এছাড়াও অনেকদিন ধরে পারিবারিক পরিবেশে সময় কাটিয়ে মানসিকভাবেও তিনি অনেকটা প্রফুল্ল থাকবেন। যা দলের নেতাকর্মীদের বিশাল পাওয়া। এই মানসিক প্রশান্তি তাকে( খালেদা জিয়া) আগামী দিনে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সাহসী পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর লন্ডনে খালেদার এটি দ্বিতীয় সফর। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পথে ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া ২০১৪ সালে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গেলে তারেকও লন্ডন থেকে সেখানে গিয়েছিলেন। এরপর প্রায় ১ বছরের বেশি সময় আর মা-ছেলের দেখা হয়নি।
এমএইচ





