বিগত দিনের সরকারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে না থেকে আঁতাত করে রাজনীতি করেছেন এমন নেতাদের হঠাৎ করেই দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতা ‘পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এবার কোনো পকেট কমিটি করার সুযোগ নেই এমন কড়া বার্তা শোনার পর যে কোনো মূল্যে পদ রক্ষায় ব্যস্ত এসব সুবিধাবাদীরা।
বিএনপির একাধিক সূত্র মতে, চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এমনকি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কাছে গিয়ে তদবির-লবিং করছেন অনেক নেতা। সম্প্রতি পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের অফিস ও বাসভবনে এমন নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এমনকি অনেকেই নিজ অনুসারীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ‘নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী’ নেতাদের ব্যাপারে এবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কঠোর। কোনোভাবেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে না বিষয়টি স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বেগম থালেদা জিয়া বলেছেন-‘‘যারা দলের জন্য ত্যাগী, অনুগত তাদেরকে কমিটিতে ভাল পদ দিতে হবে। দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে যারা সাহসের সঙ্গে অংশ নেবে তাদেরকেই নেতৃত্বে আনতে হবে। আর নিষ্ক্রিয়দের বাদ দেয়া হবে না। তবে পেছনে রাখতে হবে।
এ সময় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আপনারা কেউ পকেট কমিটি করার চেষ্টা করবেন না। এটাতে দলের ক্ষতি হয়। আমি সবাইকে চিনি। যাদেরকে আপনারা চিনেন না। এখন মোবাইলে অনেকেই বাসায় বসে বলেন আমি অমুক জায়গায় আছি। কিন্তু বললেই বিশ্বাস করবো তা আর হবে না।’’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর সারা দেশে বিএনপি নেতাদের কারা জেলে গেছেন, কারা আন্দোলন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন, তাদের তালিকা করা হয়েছে। দুই দফা আন্দোলনে যারা মাঠে ছিলেন এমন নেতাদের একটি তালিকা করা হয়েছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগী এসব নেতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ত্যাগীরা যাতে বাদ না পড়ে তা মনিটরিং করতে কেন্দ্র থেকে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দল পুনর্গঠন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা/মহানগর/থানা/উপজেলা/পৌর/ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে কেন্দ্রে চিঠি দেওয়া হয়। ৯ আগস্ট ওই চিঠি যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি জেলায় সভা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু ইউনিয়ন কমিটি গঠনের কাজও শুরু হয়েছে ।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, পুনর্গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জাগরণ শুরু হয়েছে। অনেক জায়গায় কমিটি গঠনের কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জেলা ‘যৌক্তিক’ কারণে কমিটি গঠন করতে না পারলে তাদের সময় বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কেউ যদি অযৌক্তিকভাবে সময় ক্ষেপণ করেন কিংবা কাজ করতে ব্যর্থ হন; ওই জেলা কমিটি গঠনের দায়িত্ব কেন্দ্র নেবে। তাদের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হবে না।
দলের এমন কঠোর অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান দুদু টাইমনিউজবিডিকে বলেন, এ চিঠি ত্যাগী নেতাদের জন্য সুখবর বলতে হবে। যারা মাঠে ছিলেন, জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন; তারা এতে খুশি হয়েছেন।
তবে সুবিধাবাদী ও নিষ্ক্রিয়দের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা তো সবসময় গা বাঁচিয়ে আঁতাতের রাজনীতি করেছে। তাই তারা এখন পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ লবিং করবে। এজন্য দলের স্বার্থেই ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করতে হবে।
এমএইচ/ এএইচ





