বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক হানাহানির কারণে আমাদের স্বাধীনতা আজও অর্থবহ হয়ে উঠেনি। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে হানাহানি ও নেতিবাচক রাজনীতি বন্ধ করে ইতিবাচক ধারায় ফিরতে হবে। অন্যথায় আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নগুলো অধরাই থেকে যাবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল থানা পশ্চিম আয়োজিত ‘রুকন ও ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা অর্ধশতাব্দী আগে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সময় বিবেচনায় তা কম নয়। আমাদের অনেক পরে স্বাধীনতা লাভ করে অনেক দেশ অনেক উন্নতি করেছে। এশিয়াতেও এর নজির রয়েছে।

মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উদ্যোগ নেয়া গেলে আমরা দেশকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করতে পারতাম। গুটিকয়েক মূল্যবোধহীন ও লোভী মানুষ ছাড়া আমাদের দেশের মানুষ খুবই ভালো ও অল্পে তুষ্ট। তারা কর্মঠ ও কর্মক্ষম। তাই এদেরেকে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা গেলে দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব ছিল।

তিনি বলেন, আল্লাহভীরু ও সৎ নেতৃত্বের অভাবে আমরা আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। তাই আগামী দিনের জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশে সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। দেশকে কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। মূলত আল্লাহ আমাদেরকে খলিফা হিসেবে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। খলিফার দায়িত্ব হলো আল্লাহ তায়ালার আদেশ যথাযথভাবে পালন করে তার নৈকট্য লাভ ও আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা। আর এক্ষেত্রে মুমিনের কোনো পরাজয় নেই। নিহত, বিজয়ী ও পরাজয় কোনো কিছুই বিবেচ্য নয়। বরং লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করাই আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, এ অবস্থায় আমাদের পক্ষে ঘরে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। গন্তব্যে পৌঁছার জন্য আমাদেরকে সাহসিক অভিযান শুরু করতে হবে। উদার মানসিকতা নিয়ে মানবসেবার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করে তাদেরকে দ্বীনের পথে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণসংযোগ কর্মসূচিকে বিশেষভাবে কাজে লাগাতে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শূরা সদস্য ও থানা আমির মু: আতাউর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো: ইউছুফ আলী মোল্লার পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য হেমায়েত হোসেন ও উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আবু তানজিল, আবু সাঈদ মন্ডল, গোলাম মাওলা, রাশেদুল ইসলাম, শায়েস্তা খান, আব্দুস সাত্তার ও হাবিবুর রহমান মজুমদার প্রমুখ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এমআর