রামুর ঘটনায় আ’লীগের লোকজন জড়িত ছিল অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে কোন ধর্মের লোকই নিরাপদ নয়। তারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে কোন ধর্মের প্রতিই তাদের শ্রদ্ধা নেই।
সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রামু ট্রাজেডির দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার সময় তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম ছিলেন। কিন্তু সেদিন তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। এতেই প্রমাণিত হয় এ ঘটনায় সাথে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত থাকার কারণেই আজও রামুর ঘটনায় অপরাধীদের এখনো বিচার হয়নি।
নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে আওয়ামী লীগ একের পর এক সমস্যা তৈরী করে মন্তব্য কওর তিনি বলেন, তারা এমন অপকর্ম করে। সে অপকর্ম ঢাকার জন্য নতুন নতুন সমস্যার তৈরী করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
কোন ধর্মের প্রতিই আলীগের শ্রদ্ধা নেই অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনা পদে পদে এই দেশের মানুষকে নির্যাতন ও লাঞ্চিত করেছে যার শিকার আপনারাও। তারা ৫ই মে শাপলা চত্তরে নিরীহ মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বাড়ি ঘর দখল করেছে, নির্যাতন চালিয়েছে। খ্রিস্টানদের গীর্জায় হামলা চালিয়েছে। আপনাদের উপরতো নির্মম হামলা হয়েছে।
বিএনপি নয় আ’লীগের সাথেই জঙ্গিদের সম্পর্ক দাবি করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাথেই জঙ্গিদের সম্পর্ক আত্মীয়তা। তাই তারা কথায় কথায় বিদেশীদের কাছে জঙ্গিবাদের নালিশ করে।
হাসিনাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে দাবি করে তিনি প্রশ্ন করেন, হাসিনা গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারেনি? লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে নি? রক্ত দেখলে হাসিনা আনন্দ পায়, খুশি হয়। তার শুধু রক্ত চাই রক্ত চাই। নইলে ক্ষমতায় এসেই পিলখানায় সেনা অফিসারদের হত্যা করা হলো। কেন সেদিন সেনা পাঠানো হলনা। কেন আর্মি গেলনা। কেন বিদ্রোহীদের সাথে মিটিং করলো। কার নির্দেশ কার আদেশে করা হয়েছে তা তারা জানে। সেজন্য সুষ্ঠু কোন তদন্ত হয়নি।
দেশে কোন সরকার নেই। তারা গণতন্ত্র নয় একদলীয় বাকশালেরর পথে হাটছে। নিজেদের সুবিধার জন্য ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বিভিন্ন আইন করছে। সম্প্রচার নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। টকশোতেও কথা বলা যাবেনা। তারা নিজেদের সমালোচনা পছন্দ করেনা। অথচ নিজেরা সব সময় অন্যদের গালিগালাজ করে।
ঘরে বাইরে কেউ নিরাপদ নয় দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, আজকে দেশের মানুষ কোথাও নিরাপদ নেই। ঘরে থাকলে খুন, বাইরে গেলে গুম। ইয়াং ছেলেদের টার্গেট করেও গুম করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়। আল্লাহ আমাকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন। আমাদের লড়াই এদেশে মানুষকে রক্ষা করার জন্য। জালেম অত্যাচারীদের হাত থেকে এই দেশকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করা জন্য।
কুরবাণীর ঈদে পথে পথে চাদাবাজীতে মানুষ অতিষ্ঠ। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আ’লীগের লোকজন চাদাবাজী করছে।
চট্টগ্রাম জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক সুশীল বড়–য়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া, সহ শতাধিক বৌদ্ধ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা, এমএইচ, ২৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম





