ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে সরকার সমর্থকদের কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার পাশাপাশি এবার ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারাও গণহারে জাল ভোটে অংশ নিতে দেখা গেছে।

নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা এসব কর্মকর্তাদের ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত বাংলাবাজার সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটের কাজে নিয়োজিত পোলিং কর্মকর্তাকে জাল ভোটে অংশ নিতে দেখা গেছে।

ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তাকে সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রতীকে একের পর এক সিল মেরে বাক্সে ভরতে দেখা যায়।

পুরান ঢাকার নারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রিজাইডিং অফিসার ওবায়দুল ইসলামকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে দেখা যায়।

ঢাকা দক্ষিণের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৪২ নম্বর ওই ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে সকালে ভোটারদের ফিরিয়ে দিতে দেখা যায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের। ভোটাররা কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাদের বলেন, ‘ভেতরে সকলে নাস্তা করছে। এখন না পরে আসেন।’

এ সময় কোনো প্রতিবাদ না করেই ভোটারদের ফিরে যেতে দেখা যায়।

তবে ভেতরে গিয়ে তাদের কাউকে নাস্তা খেতে দেখা যায়নি। ওই ভোটকেন্দ্রের দোতলায় দুটি ভোটকক্ষের মধ্যে একটি বন্ধ ছিল। এক নম্বর বুথে যেতে চাইলে তাদের বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন কার্ডবিহীন দুই ব্যক্তি।

পরে ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, প্রিজাইডিং অফিসার ওবায়দুল ইসলাম, পোলিং অফিসার, ইলিশ মাছ প্রতীকের পোলিং এজেন্ট এবং দুজন কার্ডহীন ব্যক্তি ব্যালট পেপারে সিল মারছেন। তারা সবাই ইলিশের সিল দিচ্ছিলেন।

এ সময় অন্য কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে সেখানে দেখা যায়নি।

সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই এরপর যার যার আসনে বসে পড়েন। প্রিজাইডিং অফিসার বুথ থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে যান।

প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ‘নির্বাচন কমিশন থেকে লোক আসার’ অজুহাত দেখিয়ে তিনি নিজের কক্ষে ঢুকে পড়েন।

কেএইচ