‘জয়পুরহাট জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবুজর গিফারী ও সেক্রেটারী ওমর আলীকে গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আসার পথে উত্তরার আবদুল্লাহপুরে বাস থেকে আটক করার পর প্রায় ৯দিন নিখোঁজ করে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাদের গ্রেফতার করার কথা স্বীকার করার ঘটনায় এবং গত ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ছাত্রলীগ ও বহিরাগত যুবলীগ সন্ত্রাসীদের ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ ছাত্রদের উপর যৌথ হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।’
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ছাত্রলীগ ও বহিরাগত যুবলীগের সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রাম সরকারী কলেজে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত ৮ ডিসেম্বর বাসে ঢাকায় আসার পথে উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে বাস থেকে জয়পুরহাট জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবুজর গিফারী এবং সেক্রেটারী ওমর আলীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার পর তাদের অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রাখে।
ছাত্রশিবিরের আটককৃত ২ নেতার আত্মীয়, পরিবার-পরিজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলে তারা তাদের আটক করার কথা অস্বীকার করে।
দীর্ঘ ৯ দিন পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজ ১৭ ডিসেম্বর তাদের গ্রেফতার করার কথা স্বীকার করে হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে নাটক সাজিয়েছে।
কাউকে গ্রেফতার বা আটক করার পরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে আদালতে সোপর্দ করার আইনী বিধান থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন অমান্য করে দীর্ঘ ৯দিন পর্যন্ত তাদের নিখোঁজ করে লুকিয়ে রেখেছিল।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের ভূমিকা সম্পূর্ণ বেআইনী ও মানবতাবিরোধী। এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ন্যক্কারজনক বেআইনী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি দেশী-বিদেশী সকল মানবাধিকার সংস্থা ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
একইসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৬ ডিসেম্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ছাত্রলীগ ও বহিরাগত যুবলীগ সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের উপর ব্যাপকভাবে হামলা চালায়।
এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ছাত্রলীগ ও বহিরাগত যুবলীগ সন্ত্রাসী ক্যাডাররা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা চালিয়ে ২৫ জনকে আহত করেছে এবং প্রায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে ২টি মিথ্যা মামলা করেছে।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা না করে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ও সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে উৎসাহ দিচ্ছে।
এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। তাদের এ দ্বিমুখী নীতির কারণে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ছাত্রলীগ ব্যাপক সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করছে।
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, হত্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, গুম, ভর্তি বাণিজ্য ও সীট বাণিজ্য এবং শিক্ষকদের উপর হামলা করা থেকে শুরু করে হেন কোন কাজ নেই যা তারা করছে না। অথচ সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করছে না। বর্তমানে ছাত্রলীগ একটি ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ সারা দেশে সন্ত্রাসী তান্ডব চালাচ্ছে।
অথচ তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে দেশের জেলখানাগুলো ভরে ফেলেছে। এমনকি পর্দানশীন ধার্মিক মহিলারা পর্যন্ত সরকারের গ্রেফতার থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
আজ ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে ডিবি পুলিশ গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর পৌরসভা জামায়াতের মহিলা রুকন জেসমিন আক্তার কল্পনা ও জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।
জয়পুরহাট জেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবুজর গিফারী ও সেক্রেটারী ওমর আলী এবং কালিয়াকৈর পৌরসভা জামায়াতের মহিলা রুকন জেসমিন আকতার কল্পনা, জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ থেকে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্রসহ গ্রেফতারকৃত সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং সেই সাথে ছাত্রলীগের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধ করার জন্য তাদের সাংবিধানিক নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এমকে





