দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, নানা সহিংসতা,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাবলী তদন্তে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন চারটি কমিটি গঠন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম সাংবাদিকদের বলেন, দলের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশক্রমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই চারটি কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'সংঘটিত জেলায় কিভাবে ঘটনাবলী সংঘটিত হয়েছে, কখন ঘটেছে, কারা দোষী তা চিহ্নিত করে এসব কমিটি সুপারিশ আকারে প্রতিবেদন করবে।'
কমিটির চারটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। কমিটিতে বরণ্যে পেশাজীবী শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের নেতৃবৃন্দ রয়েছেন।
বুধবার সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর খালেদা জিয়া এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার ঘটনাবলী তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
সদস্যরা হলেন- বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হারুন-অর রশীদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী।
নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও জেলার ঘটনাবলী তদন্ত কমিটির আহবায়ক হচ্ছেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ এফ এম আবদুল হালিম ও সদস্য সচিব জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ।
সদস্যরা হলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টন কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সাবেক সহসভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু।
সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার ঘটনাবলী তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন- সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী ও সদস্য সচিব হচ্ছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
সদস্যরা হলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট অলিউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়েদুল ইসলাম, বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড।
কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার ঘটনাবলীর তদন্ত কমিটির আহবায়ক হচ্ছেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ ও সদস্য সচিব হচ্ছেন দলের ধর্ম বিষয়ক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
সদস্যরা হচ্ছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন জসিম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার জন্য গঠিত কমিটির আহ্ববায়ক চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ এ বিষয়ে টাইম নিউজকে বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আমরা কাজ শুরু করব। এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলার চেষ্ঠা করব। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এর সত্যতা যাচাই করেই প্রতিবেদন তৈরি করে চেয়ারপার্সনের নিকট জমা দেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার ঘটনাবলী তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে সারাদেশে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হামলার স্বীকার হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেককেই বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এসব বিষয়াবলী নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেই এই কমিটি। আমরা প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্ঠা করব।
তিনি আরো বলেন, আহ্বায়কের সাথে কথা বলে আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই আমরা কাজ শুরু করে দেব।
[b]ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি (টাইম নিউজবিডি.কম)//এমএইচটি/এআর[/b]
রাজনীতি
সংখ্যালঘু নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যা তদন্তে বিএনপির কমিটি
দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, নানা সহিংসতা,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর





